সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নীল জোছনার আলিঙ্গন: ঢাকার বুকে একটি রোমান্টিক প্রেমের গল্প

মায়ার বাঁধন: বুড়িগঙ্গার বুকে এক নীল জোছনা প্রথম পরিচ্ছেদ: স্মৃতির ভেলা ঢাকার যান্ত্রিক জীবন যখন হাঁপিয়ে তোলে, তখন মানুষ খোঁজে একটু প্রশান্তি। আমি ছিলাম উত্তরবঙ্গের হিমশীতল হাওয়ায়, আমার ছোট বোনকে তার নতুন সংসারে গুছিয়ে দিতে। নীলফামারীর সেই শান্ত পরিবেশ থেকে ফেরার পথে মনের কোণে একটা সুপ্ত ইচ্ছা উঁকি দিল। সায়ম থাকে ঢাকায়, কিন্তু শহরের কোলাহল থেকে দূরে, বুড়িগঙ্গার তীরের এক নিরিবিলি কোণায়। আমাদের সম্পর্কের বয়স প্রায় এক দশকেরও বেশি। এক সময় আমরা একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিলাম, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে বিচ্ছেদ ঘটেছিল। তবে যোগাযোগটা কোনোদিন ছিন্ন হয়নি। আমার স্বামী রনি অত্যন্ত আধুনিক এবং মুক্তমনা একজন মানুষ। আমাদের দাম্পত্যে গোপনীয়তার চেয়ে বিশ্বাসের জায়গাটা বেশি মজবুত। আমি যখন সায়মের সাথে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানালাম, সে হাসিমুখে সায় দিল। বলল, “জীবনটা ছোট, পুরনো বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়গুলোই তো সঞ্চয়।” রনির এই উদারতা আমাকে আরও নির্ভার করে তুলল। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পুনর্মিলন উত্তরা থেকে ট্যাক্সি নিয়ে যখন আমি সায়মের বাসার কাছাকাছি পৌঁছলাম, সূর্য তখন পাটে বসছে। সায়ম আগে থেকেই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। প...

প্রতিবেশী যখন প্রিয়জন: একটি রোমান্টিক প্রেমের গল্প

প্রতিবেশী যখন প্রিয়জন ১. নতুন ঠিকানায় নতুন দেখা ঢাকা শহরের জনাকীর্ণ এলাকার একটি শান্ত অ্যাপার্টমেন্ট। তেত্রিশ বছর বয়সী অবন্তিকা যখন এই ফ্ল্যাটে প্রথম পা রাখে, তখন তার মনে ছিল না যে এখানে তার একাকী জীবনে কোনো নতুন রং লাগবে। অবন্তিকা দেখতে ছিপছিপে, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, আর চোখে এক ধরণের মায়া মাখানো গভীরতা। তার দীর্ঘ বাদামী চুলগুলো যখন পিঠে ছড়িয়ে থাকে, তখন তাকে অনেকটা বিভূতিভূষণের উপন্যাসের কোনো নায়িকার মতো লাগে। অবন্তিকার ঠিক ওপরের তলায় থাকে আরিয়ান। আরিয়ানের বয়স চুয়াল্লিশের কোঠায়। লম্বায় বেশ দীর্ঘ, সুঠাম গড়ন, আর চুলের কাটিংয়ে একটা আভিজাত্য আছে—কিছুটা কাঁচা-পাকা চুল তার ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। প্রথম দিন যখন লিফটের সামনে আরিয়ান হেসে "হ্যালো" বলেছিল, তখন থেকেই অবন্তিকার মনের কোণে একটা সূক্ষ্ম দোলা লেগেছিল। কিন্তু অবন্তিকা প্রচণ্ড লাজুক স্বভাবের মেয়ে, নিজে থেকে কথা বলা তো দূরের কথা, কারো চোখের দিকে তাকাতেও তার সংকোচ হয়। ২. লুডু আর রাত জাগা গল্প তাদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল নেহাত সাধারণ সৌজন্যবোধ থেকে। কিন্তু আরিয়ান ছিল বেশ সামাজিক। একদিন বৃষ্টির বিকেলে আরিয়ান নি...

কর্পোরেট কোলাজ: একটি রোমান্টিক বাংলা গল্প (Corporate Collage - Bengali Romantic Story)

  কর্পোরেট কোলাজ কলকাতার সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ব্যস্ত অফিসপাড়া। কাঁচের ঘেরা বহুতল ভবনগুলোতে হাজার হাজার উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর প্রতিযোগিতার ভিড়। অনন্যা যখন 'সেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে'র ইন্টারভিউ দিয়ে বেরোচ্ছিল, ঠিক তখনই তার সঙ্গে দেখা হলো রাজীবের। রাজীব ছিল পরবর্তী ইন্টারভিউয়ার। অনন্যা নিজে সুন্দরী এবং আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু রাজীবকে দেখে তার মনে হলো— এ তো বেশ শক্ত প্রতিপক্ষ। কয়েক দিন পর রেজাল্ট বেরোলো। রাজীব প্রজেক্ট ম্যানেজারের পদটি পেয়েছে, আর অনন্যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে। প্রথম দিন অফিসে রাজীবকে দেখে অনন্যার বুকটা একটু কেঁপে উঠেছিল। দীর্ঘকায়, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, আর চোখে এক অদ্ভুত তীক্ষ্ণতা— যাকে বলে আদ্যোপান্ত 'ডিবোনেয়ার'। অনন্যা বিবাহিতা ছিল, একটি ছোট সন্তানও আছে তার। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙাগড়ার পর সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। পুরনো সম্পর্কের তিক্ততা তাকে নিজের শরীর এবং আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে সন্দিহান করে তুলেছিল। কিন্তু রাজীবের সাহচর্য যেন ধীরে ধীরে সেই বরফ গলাতে শুরু করল। কাজের আড়ালে অনুরাগের ছোঁয়া অফিসের কাজে রাজীব অত্যন্ত দক্ষ ...