বর্ষার শেষভাগের এক সন্ধ্যা। ঢাকার আকাশে তখন ধূসর মেঘের ভেলা, মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চিকচিক আলো যেন শহরের কংক্রিটের দেয়ালগুলোকে আরও নিঃসঙ্গ করে তুলছিল। রাস্তার ধারে বৃষ্টিভেজা কদমফুলের গন্ধ ভেসে আসছিল বাতাসে। এই শহরটাকে নন্দিনী কখনও খুব ভালোবাসতে পারেনি, কিন্তু আজকে তার মন অদ্ভুত রকমের হালকা আর উচ্ছ্বসিত লাগছিল। কারণ আজ রাতটা ছিল শুধুই তার আর অর্ণবের জন্য। অর্ণব একজন দূরপাল্লার ট্রাকচালক। দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে মালপত্র পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। কখনও চট্টগ্রাম, কখনও সিলেট, কখনও খুলনা—রাস্তাই যেন তার দ্বিতীয় ঘর। মাসের বেশিরভাগ সময় সে বাড়ির বাইরে থাকে। তাই যখনই সে ঢাকায় ফেরে, নন্দিনীর মনে হয় জীবনের সব রঙ যেন আবার ফিরে এসেছে। আজও সেই রকমই একটি দিন হওয়ার কথা ছিল। বিকেল থেকেই নন্দিনী নিজেকে সাজাতে শুরু করেছিল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুলে হালকা কার্ল করছিল সে। খুব বেশি সাজগোজ তার পছন্দ নয়, কিন্তু অর্ণব সবসময় বলত, “তুমি যখন একটু লাল লিপস্টিক পরো, তোমাকে দেখে আমার পুরো পৃথিবী থেমে যায়।” সেই কথাটা মনে করেই আজ সে ঠোঁটে গাঢ় লাল রঙ ছুঁইয়ে দিয়েছিল। একসময় নিজের ছোট্ট গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল স...
এক দীর্ঘ রোমান্টিক বাংলাদেশি প্রেমকাহিনি ঢাকার ব্যস্ত শহরটা যেন কখনো ঘুমায় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু গাড়ির হর্ন, মানুষের ভিড় আর ধোঁয়ায় ঢাকা আকাশ। কিন্তু এই কোলাহলের মাঝেও কিছু মানুষ থাকে, যাদের হৃদয়ে লুকিয়ে থাকে এক টুকরো নীল আকাশ, কিছু স্বপ্ন আর এক চিলতে শান্তির খোঁজ। আমি অনিন্দিতা। বয়স চব্বিশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বই, কবিতা আর প্রকৃতি—এই তিনটাই আমার পৃথিবী। শহরের এই যান্ত্রিক জীবনে আমি সবসময় খুঁজে ফিরতাম একটু মুক্ত বাতাস, একটু নির্জনতা। আর সেই খোঁজের মাঝেই আমার জীবনে এসেছিল নীলান্ত। নীলান্ত ছিল একেবারে অন্যরকম। ওর চোখে সবসময় একটা শান্ত নীল আকাশের ছায়া দেখা যেত। ঢাকার কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত, কিন্তু অফিসের হিসেবি জীবনের বাইরেও ওর একটা আলাদা জগৎ ছিল—বাইক, নদী, গ্রামবাংলার পথ আর স্বাধীনতা। আমাদের পরিচয় হয়েছিল বইমেলায়। সেদিন ফেব্রুয়ারির শেষ বিকেল। চারদিকে বইয়ের গন্ধ, মানুষের ভিড়, আর মৃদু বসন্তের বাতাস। আমি জীবনানন্দ দাশের কবিতার বই উল্টে দেখছিলাম। হঠাৎ পাশ থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এলো— “আপনি কি জীবনানন্দ পড়েন?” আমি তাকিয়ে দেখি, লম্বা গড়নের এক ছ...