সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বর্ষার সেই মায়াবী রাত: হৃদয়ের আল্পনা

কলকাতা শহরের ব্যস্ত জীবন আর তার মাঝে এক নিরিবিলি করপোরেট অফিস। অনিমেষ আর বৃষ্টির পরিচয় প্রায় তিন বছরের। অনিমেষ বৃষ্টির বস্ হলেও, তাদের সম্পর্কটা কেবল ফাইলপত্র আর মিটিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অনিমেষের নম্র ব্যবহার, মিষ্টি কথা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা বৃষ্টিকে তার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল অনেক আগেই। কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে সেই অনুভূতিকে বৃষ্টি সবসময় মনের এক কোণে সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিল। এক অসমাপ্ত টান অনিমেষ যখন করিডোর দিয়ে হেঁটে যেতেন, বৃষ্টির চোখ অজান্তেই তাকে অনুসরণ করত। তার ব্যক্তিত্বে এমন একটা আভিজাত্য ছিল যা বৃষ্টিকে মুগ্ধ করত। কিন্তু অফিসের পরিবেশ আর সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে সে নিজেকে বারবার সংযত করেছে। তবুও, মনের গহীনে এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা চলত—অনিমেষ কি তার মনের কথা জানে? সে কি বোঝে বৃষ্টির চোখের এই না বলা ভাষা? সম্প্রতি পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া নানা অস্থিরতা—জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে চলা অর্থনৈতিক টানাপোড়েন—সবই যেন মানুষের সম্পর্কগুলোকে আরও ভঙ্গুর করে দিচ্ছিল। এই অনিশ্চয়তার যুগে বৃষ্টি অনুভব করল, জীবনটা বড্ড ছোট। মনের মানুষের কাছে নিজের সত্যিটা প্রকাশ না করলে ...

অফিস করিডোরের সেই বসন্ত – গোপন প্রেমের এক মায়াবী গল্প | Bengali Romantic Story

অনির্বাণকে প্রথম দেখলে যে কেউ বলবে—এই মানুষটি যেন এক চলমান স্থিরতা। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, চুলে পাক ধরেছে, চোখে এক ধরনের গভীর শান্তি। অফিসে তিনি খুব বেশি কথা বলেন না, কিন্তু যখন বলেন, তখন তা ভেবে-চিন্তেই বলেন। সহকর্মীরা তাকে সম্মান করে, কেউ কেউ একটু ভয়ও পায়। কারণ অনির্বাণ কখনো কারও সামনে নিজেকে প্রকাশ করেন না সহজে। এই দপ্তরটা একটু অন্যরকম। এখানে নারীদের সংখ্যাই বেশি। প্রত্যেকের জীবনে আছে নিজস্ব গল্প—কারও বিবাহ ভেঙেছে, কেউ একা সন্তান বড় করছে, কেউ আবার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে লড়াই করছে। এই কোলাহল, ব্যস্ততা আর অদৃশ্য সংগ্রামের ভিড়ে অনির্বাণ যেন এক নীরব আশ্রয়। আর ঠিক তার পাশের কিউবিকলেই বসে অনন্যা। অনন্যাকে প্রথম দেখলে যে কেউ একটু থমকে যাবে। ত্রিশোর্ধ্ব এই নারীটির মধ্যে এক অদ্ভুত প্রাণশক্তি আছে। তার চোখে যেন সারাক্ষণ গল্প খেলা করে। মুখে হাসি লেগেই থাকে, কিন্তু সেই হাসির আড়ালে একটা গভীর ক্লান্তি, একটা না-বলা ব্যথাও লুকিয়ে আছে—যা খুব কাছে না গেলে বোঝা যায় না। অনন্যা তার দুই সন্তানকে নিয়ে একাই থাকে। জীবনের কঠিন সময় পার করে সে আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তার ভিতরের কোমলতাটা এখনো মরে যায়নি। বর...

নীলগিরির সেই কুয়াশাঘেরা বিকেল

অনির্বাণ যখন কোলকাতা থেকে নীলগিরির পথে রওনা হয়েছিল, তখন তার মনে ছিল না কোনো বিশেষ পরিকল্পনা। কেবল ছিল একঘেয়ে যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি আর দীর্ঘদিনের পরিচিত বন্ধু অর্পিতার পরিবারের সাথে দেখা করার এক অদ্ভুত টান। অনির্বাণের বয়স এখন পঁচিশ, আর অর্পিতা তার চেয়ে দু-বছরের ছোট। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাদের বন্ধুত্ব এক গভীর পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর বিমানবন্দরে যখন অনির্বাণ নামল, তখন বাইরে বৃষ্টির আবহাওয়া। কথা ছিল অর্পিতার বাবা তাকে নিতে আসবেন, কিন্তু গাড়ির দরজা খুলে যা দেখল তাতে সে থমকে দাঁড়াল। গাড়ির চালকের আসনে অর্পিতার দিদি, অবন্তিকা। ঠিক যেন অর্পিতারই এক প্রতিচ্ছবি, কিন্তু ব্যক্তিত্বে আরও কিছুটা গম্ভীর এবং মোহময়ী। কুয়াশার পথে প্রথম সংলাপ গাড়ি পাহাড়ি পথ বেয়ে উপরে উঠছে। চারদিকে পাইন গাছের সারি আর মেঘেদের আনাগোনা। অবন্তিকা হঠাৎ নিস্তব্ধতা ভেঙে জিজ্ঞেস করল, "অর্পিতা কেমন আছে অনির্বাণ? ও কি খুব মন খারাপ করছে তুমি এখানে একা চলে এলে বলে?" অনির্বাণ মৃদু হেসে উত্তর দিল, "একটু তো বটেই। তবে ও জানে আমার এই সফরটা খুব দরকার ছিল। পাহাড়ি নিস্তব্ধতা না পেলে হয়তো আমার লেখাটা আর ...

স্মৃতির পলি ও একটি নতুন ভোর

উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাস্তার দুই পাশে ঘন সবুজের সমারোহ। মার্চ মাসের শেষ, হালকা ঠান্ডা বাতাসে এখনও বসন্তের রেশ লেগে আছে। দীর্ঘ অনেকটা বছর পর আমি আর মারিয়া আবার এক সাথে। আমাদের বিচ্ছেদটা তিক্ত ছিল না, ছিল পরিস্থিতির চাপে। দীর্ঘ বিরতির পর যখন আবারও দেখা হলো, দেখলাম মারিয়া সেই আগের মতোই স্নিগ্ধ। তার সাথে আছে তার দশ বছরের ছেলে, নীল। নীলকে একটা ভালো সময় উপহার দেওয়ার জন্য আমরা পরিকল্পনা করলাম শিলিগুড়ির এক বিনোদন পার্কে যাওয়ার। যাত্রাপথের মুগ্ধতা গাড়ির পেছনের সিটে নীল জানালার বাইরের চা-বাগান দেখে উচ্ছ্বসিত। আর আমার ঠিক পাশেই বসে আছে মারিয়া। রোদের ঝিলিক যখন ওর মুখে পড়ছিল, আমি বারবার আড়চোখে ওর দিকে তাকাতে বাধ্য হচ্ছিলাম। নীল শাড়ি আর কপালে একটা ছোট্ট কালো টিপ—মারিয়া যেন ঠিক কোনো কবিতার পাতা থেকে উঠে আসা নারী। ওর শান্ত স্বভাব আর মার্জিত সৌন্দর্য আমাকে বারবার সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ওর চোখের মায়ায় এক অদ্ভুত টান আছে, যা এড়িয়ে যাওয়া আমার পক্ষে আজও অসম্ভব। পুরো দিনটা কাটলো বিনোদন পার্কে। নীলের হাসিমুখ দেখে আমাদের দুজনের ক্লান্তিও যেন ম্লান হয়ে গিয়েছিল। মারিয়ার হাসিখুশি ভঙ্গি আর নীলের প...