সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ভাইরাসের জাদু Bengali romantic story

  প্রেমের জগৎ এক রহস্যময় রাজ্য। কখনো তা সুখে মোড়া, আবার কখনো তাতে লুকিয়ে থাকে দুঃখের ছায়া। মানুষ কখন যে এই প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়, তা সে নিজেও বুঝতে পারে না। আনন্দ, উত্তেজনা, আবেগ—এই সবকিছু মিলে প্রেম যেন এক স্রোতের মতো জীবনকে বয়ে নিয়ে যায়। এমনই এক প্রেমের গল্প রচনা করেছিল আমার বন্ধু ঋতব্রতর জীবন, যার কথা আমি আজ বলব। শুভারম্ভ: এক প্রেমের সূচনা ঋতব্রত, যাকে সবাই আদর করে রিতু বলে ডাকত, থাকত টরন্টোর স্কারবোরো শহরে। ছেলেবেলা কেটেছিল কলকাতার এক ছোট্ট পাড়ায়, যেখানে আমরা দু'জন একসাথে বেড়ে উঠেছিলাম। কৈশোরের সেই দিনগুলোতে, পাড়ার গলির খেলাধুলা, সন্ধ্যাবেলায় লাইব্রেরিতে গল্পের বই পড়া—সবকিছুতেই ছিল আমাদের একসাথে থাকা। কিন্তু সময় বদলে গেল। ঋতব্রত পড়াশোনার জন্য কানাডায় চলে গেল, আর আমি রয়ে গেলাম কলকাতায়। কানাডায় গিয়ে রিতুর জীবন নতুন মোড় নিল। সেখানেই তার পরিচয় হলো মেঘনার সঙ্গে। এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা। মেঘনা ছিল সেখানকার স্থানীয় এক শিল্পী, যার গানে আর নৃত্যে ছিল অপূর্ব দক্ষতা। মঞ্চে তার নাচ দেখেই রিতুর মন হঠাৎই এক অজানা আবেগে ভরে উঠল। পরের দিনই সে সাহস করে ম...

একটি বিবাহের ফাঁদ ekti bibaher fandh

  আমার পুরনো বন্ধু দেবাশীষ, যিনি দীর্ঘ দশ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন, আমাকে এই গল্পটি শুনিয়েছিলেন। সরকারি কাজে ভারত ও আমেরিকা সফরের সময়, আমি বহুবার তার অতিথি হয়েছি। আমরা একসাথে নানা অনুষ্ঠান ও সভায় যোগ দিয়েছি, কিন্তু এবারের সাক্ষাৎ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কলকাতার এক ব্যস্ত রাস্তায়, হঠাৎ করেই আমাদের দেখা হয়ে গেল। প্রথমে আমরা শহরের মিউনিসিপ্যাল অফিসে কিছু কাজ শেষ করলাম, তারপর একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বসলাম। সেখানেই তিনি আমাকে তার জীবনের এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার কথা বললেন—একটি গল্প, যা শুনলে বিস্ময়ে মন ভরে যায়। দশ বছর পর দেখা হওয়ার আনন্দে, আমরা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে থাকলাম। বিশেষ করে ছয় বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা তাকে আজও নাড়া দিয়ে যায়। তখন তিনি কলকাতায় এসেছিলেন কয়েক দিনের জন্য। একদিন, পাশের বাড়ির এক পরিচিত ব্যক্তি তাকে আমন্ত্রণ জানালেন কফি খেতে। ভারতে প্রবাসী বাঙালিদের জন্য এ ধরনের আমন্ত্রণ এক বিশাল আনন্দের উপলক্ষ্য। তাই দেবাশীষ সানন্দে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন। প্রথম দেখা, প্রথম প্রেম দেবাশীষ দরজায় পা রাখতেই তার চোখ পড়ল এক অপূর্ব রূপবতী তরুণীর দিকে। যেন কোথ...

লাল গোলাপ Lal Golap

আমার জীবনের একটি সময়ে, ভারত ছিল আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি। এই গল্পের পটভূমি হলো কলকাতা—ভারতের প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রচুর বাংলাদেশি অভিবাসী বসবাস করেন, যারা বিভিন্ন পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যবসা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের পদচারণা লক্ষণীয়। এই গল্পের নায়ক, একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি আইনজীবী, কলকাতার অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তি। তার নাম দেবরাজ পারভেজ। দেবরাজ শুধু বাংলাদেশিদের মধ্যেই জনপ্রিয় ছিলেন না, বরং ভারতীয় সমাজেও তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। ব্যস্ত কর্মজীবন এবং অসংখ্য দায়িত্বের কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল সীমিত। বহুবার কলকাতায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে, কিন্তু যে ঘটনার জন্য আমি তার গল্পটি বিশেষভাবে তুলে ধরছি, সেটি ছিল সত্যিই অসাধারণ। একটি রহস্যময় কণ্ঠস্বর একদিন আদালতে একটি বিচ্ছেদের মামলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন দেবরাজ। তার মক্কেল, এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইছিলেন। এই মামলার জন্য দেবরাজকে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে হয়েছিল। ফোন ধরার পর, অপর প্রান্ত থেকে একটি মেয়েলি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো—অদ্ভুত রকমের আকর্ষণীয়, মায়াবী। এরকম কণ্ঠস্ব...

ভালোবাসার পাঠ valobashar Path

প্রবাসে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জীবনের গল্প সবসময়ই অনন্য এবং আকর্ষণীয়। বিশেষ করে প্রেমের গল্পগুলো যেখানে সংস্কৃতি, অভ্যাস এবং সামাজিক রীতিনীতি একে অপরের সাথে মিশে যায়। প্রেমের ক্ষেত্রে বিদেশিরা সাধারণত আমাদের আবেগপূর্ণ ও উচ্ছ্বসিত মনোভাবের বিপরীতে নিয়ন্ত্রিত ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। ফলে, অনেক বাংলাদেশি প্রবাসে গিয়ে নতুন সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে হিমশিম খায় এবং প্রেমের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অনেকে বিদেশে গিয়েও স্বদেশি জীবনসঙ্গী খোঁজে, আর যারা খুঁজে পায় না তারা একা থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সময় বদলাচ্ছে। বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। সংস্কৃতির মিশ্রণ এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশিরাও ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে, যা বিদেশিদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনছে। আর এই পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে আমাদের গল্পের নায়ক, মেহেদী। অপ্রত্যাশিত দেখা মেহেদী একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, যার পূর্বপুরুষরা ঢাকার বাইরে এক ছোট্ট গ্রামে বিশাল জমির মালিক ছিলেন। কিন্তু শহরে বসবাসের কারণে জমিগুলো অব্যবহৃত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করার পর, দেশে ভালো কোনো চাকরি ...

এক বিপজ্জনক প্রেমের গল্প

  সৌদি আরব, এই দূরদেশ, অচেনা অতিথির জন্য সবসময়ই একটি চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমার এক সরকারি সফরের সময়, সৌদি আরবে বসবাসরত আমার কিছু ব্যক্তিগত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়, বিশেষ করে রিয়াদ ও জেদ্দায়। সেই সময়ে আমার এক পুরনো বন্ধু, অনির্বাণ সেনের সঙ্গে আমার দেখা হয়। আমরা একই স্কুলে পড়তাম, কিন্তু সে এখন সৌদি আরবে বসবাস করছে। অনির্বাণ কলকাতার ছেলে, তবে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের এক ছোট শহর কৃষ্ণনগরের মেয়ে। ওরা বহু বছর আগে সৌদি আরবে চলে আসে, যেখানে অনির্বাণ একটি বড় নির্মাণ সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী হিসেবে কাজ করে। ওদের ছোট মেয়ে, তৃষা, প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতি গ্রীষ্মে প্রিয়াঙ্কা ও তৃষা কলকাতায় শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যায়। আমি সৌদি আরবে এসে হোটেল থেকে অনির্বাণকে ফোন করতেই ও অবাক হয়ে যায়। অনেকদিন পর আমাদের দেখা হবে জেনে ও খুব খুশি হয়। ওর কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও একদিন ছুটি নিয়ে আমার সঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা করে। আমরা পরদিন সকালে হোটেলের রেস্তোরাঁয় দেখা করি, আর ও আমাকে একটি ঘটনা শোনায়, যা ওর জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ও ভুলতে না পারা অভিজ্ঞতা। এক ভুল সিদ্ধান্ত সেই ঘটন...

বাংলার প্রেম Banglar Prem

১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর মাস। আমি তখন ঢাকায় বসবাস করি, সরকারি এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মহান সমাজসেবিকা, বিশ্ববিখ্যাত মানবতাবাদী আসমা খাতুনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপস্থিত হওয়া। তিনি তাঁর সেবামূলক কাজের জন্য বিশেষ শান্তি পুরস্কার, ইউনেস্কোর শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি, এবং আরও অনেক আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রামের সেই সফরে আমার জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল, যা আমাকে চিরদিনের জন্য মনে করিয়ে দিয়েছিল যে, বাংলাদেশিরা কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভালোবাসার বাঁধন জাতি, ধর্ম বা ভৌগোলিক সীমানা মানে না। অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ আমি যখন চট্টগ্রামের একটি বিশাল শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করেই পরিচয় হয় এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে। নাম তার আসিফ। চেহারায় বুদ্ধিদীপ্ত, আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ। অবাক করা ব্যাপার হলো, সে সেখানে এসেছিল তার স্ত্রী রাশিনাকে সঙ্গে নিয়ে, যে ছিল চট্টগ্রামেরই এক স্থানীয় মেয়ে। আসিফ আমন্ত্রিত করল তাদের বাড়িতে, যেখানে আমি জানতে পারলাম তাদের ভাল...

প্রেমের খেলা

রাত্রি তখন গভীর। ঘর জুড়ে নিঃশব্দ আলো, শুধু কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে ভেসে আসা নীলচে আলোয় অনুজের মুখটা আরও মনোযোগী মনে হচ্ছিল। সে তখন এক রোমাঞ্চকর ভিডিও গেমে ডুবে ছিল, যেখানে তার মহাকাশযান শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, ঈশা ধীরে ধীরে ঘরের এক কোণ থেকে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিল। ঈশার গায়ে ছিল তার নতুন লাল রঙের সিল্কি নাইটি, যা অনুজের সবচেয়ে পছন্দের। সে জানত, অনুজ বাইরে যতই গেমিং পাগল হয়ে থাকুক, তার প্রতি সে একটুও উদাসীন নয়। ঈশা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল। সে জানত, আজকের রাতটা একটু মজার হতে চলেছে। "তুমি কি সারারাত এই গেমটাই খেলবে?" ঈশা হাসতে হাসতে বলল, অনুজের কাঁধে হাত রেখে। অনুজ একটু চমকে উঠল, তবে চোখ সরাল না স্ক্রিন থেকে। "আর মাত্র কিছুক্ষণ, ঈশা। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেভেল!" ঈশা ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল। সে জানত, কীভাবে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ লেভেল’ থেকে অনুজের মনোযোগ সরানো যায়। সে পাশে বসে পড়ল, একেবারে অনুজের কাছাকাছি। তারপর নিজের লম্বা চুলগুলো আলতো করে ছড়িয়ে দিল অনুজের কাঁধের ওপর। অনুজ কপট রাগ দেখিয়ে বলল, "ঈশা, প্লিজ! আমি গেমটা হেরে যাব!" ...

তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের নীরব গাথা

তার জীবনে প্রেমের গল্প শুরু হয়েছিল একজন বিশেষ মানুষের সঙ্গে — তার কলেজের পুরনো বন্ধু বিকাশের সঙ্গে। বিকাশ ছিল একজন দায়িত্বশীল, দৃঢ় ও সহানুভূতিশীল যুবক, যার সংবেদনশীল মন আর পরিপূর্ণ ভালোবাসা মেহেরকে প্রথম থেকেই মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব কখন যে প্রেমে রূপ নিল, তা কেউই টের পায়নি। বিকাশ সবসময় মেহেরকে চোখে হারাত, কিন্তু কখনও মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনি। একদিন সন্ধ্যায় বিকাশ সাহস করে মেহেরকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানায়। এক মনোরম রেস্টুরেন্টে মোমবাতির আলোয় তাদের দেখা হয়। মেহেরের চোখের গভীরতা, তার মিষ্টি হাসি বিকাশের হৃদয়ে তীব্র কম্পন জাগিয়ে তুলেছিল। "আমি অনেকদিন ধরে তোমার কাছে একটা কথা বলতে চাই," বিকাশ বলল, একটু দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে। "কি কথা?" মেহের জানতে চাইলো। "আমি... আমি তোমায় ভালোবাসি, মেহের। দীর্ঘদিন ধরেই... কিন্তু কখনও সাহস পাইনি বলার।" মেহের কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখে একটা অদ্ভুত ঝিলিক দেখা গেল। "তুমিও তো জানো... আমিও তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম," সে বলল, হালকা হাসি দিয়ে। সেই সন্ধ্যা থেকেই তাদের প্রেমের গল্পের সূচনা হয়। ভালোবাসার এক...

প্রেমের ছোঁয়া: হৃদয়ের গভীরতা

  রাতের আকাশে চাঁদের মায়াবী আলো ছড়িয়ে পড়ছিল। ঢাকার ধানমন্ডির এক অভিজাত রেস্তোরাঁয় বসে রিয়া তার স্বামী আদিত্যর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল। তাদের বিবাহিত জীবনের আট বছর পেরিয়ে গেছে, তবু আদিত্যর চোখের সেই পুরনো মায়াবী আকর্ষণ আজও রিয়াকে ঠিক ততটাই আবিষ্ট করে রাখে, যতটা বিয়ের প্রথম দিনে করেছিল। রিয়া আর আদিত্য একে অপরের হাত ধরে বসে ছিল, যেন সময় তাদের জন্য থমকে গেছে। "তোমার জন্য একটা চমক আছে," হঠাৎ আদিত্য বলে উঠল। তার ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল। "চমক?" রিয়া কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাল। "হ্যাঁ, তুমি তো সবসময় বলো তুমি একটু আরাম আর প্রশান্তি চাও। আমি তোমার জন্য আগামীকাল স্পা সেশনের ব্যবস্থা করেছি।" রিয়ার চোখ আনন্দে চকচক করে উঠল। "তুমি সবসময় আমার যত্ন নাও," রিয়া আবেগে বলে উঠল। পরদিন সকালে রিয়া ঢাকার গুলশানের এক অভিজাত স্পা সেন্টারে পৌঁছালো। অভ্যর্থনা ডেস্কে থাকা মহিলাটি ওকে হাসিমুখে স্বাগত জানালেন। "আপনার জন্য আজ একটি বিশেষ সেশন রয়েছে," তিনি বললেন, "আমাদের প্রধান থেরাপিস্ট সৌরভ আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।" রিয়া অবাক হয়ে হ...

দুপুরের ভালবাসা

  অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও দীপকের দিকে তাকালে হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত সায়নার। কয়েক সপ্তাহ হলো তাদের বন্ধুত্ব একটু ভিন্ন মোড় নিয়েছে, কিন্তু সায়না জানে—এই সম্পর্ক তার জীবনকে বদলে দেবে চিরদিনের জন্য। সবকিছু শুরু হয়েছিল এক দুপুরের বিরতিতে। দীপক সায়নাকে বলল, "চলো, ব্যাংকে যেতে হবে, তুমি সঙ্গ দেবে?" সায়না কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। দীপকের গাড়িতে উঠতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত উত্তেজনা, এক মিষ্টি টান। অফিসে ব্যস্ততার কারণে সারাদিন ওদের মধ্যে খুব কম কথাই হয়, তাই দীপকের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে ওর মন আনন্দে নেচে উঠল। ড্রাইভের সময় দীপকের দৃঢ় হাতে স্টিয়ারিং চাকা ধরার ভঙ্গিটা সায়নার মনে একরকম শিহরণ জাগাল। ওর মনের মাঝে একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। গাড়িতে বসে সে দীপকের দিকেই তাকিয়ে রইল। দীপক ব্যাংকে কাজ সেরে যখন ফিরে এল, তখন ওর হেঁটে আসার দৃশ্য দেখে সায়নার বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগল। দীপকের সুগঠিত শরীর, চোখের সেই গভীরতা—সব মিলিয়ে ও যেন এক মোহময় মানুষ। গাড়িতে উঠে দীপক একঝলক তাকিয়েই বুঝতে পারল সায়নার মনের অবস্থা। — "কী হলো? চুপ করে আছো কেন?...

তাহসান ও সায়মার ভালোবাসার সফর

তাহসান পেশায় একজন ট্রাক চালক। সারা সপ্তাহ রাস্তার ধুলো-মাটির সঙ্গে পথচলা, কখনো শহরের ব্যস্ত রাস্তায়, কখনো বা গ্রামবাংলার সরু পথে। কাজের চাপে তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় দূরে দূরে, কিন্তু একটা মুহূর্ত সবসময় তার মন জুড়ে থাকে— সায়মার সাথে দেখা হওয়ার সময়। সায়মা তাহসানের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়। লম্বা ঘন চুল, মায়াবী চোখ আর কোমল হাসিতে ও যেন এক স্বপ্নের মতো। তাহসান জানত, কাজ যতই কঠিন হোক, সায়মার অপেক্ষায় ফেরার একটা আনন্দ আছে। একদিন, তাহসান যখন ওর ট্রিপ শেষ করে ফিরছিল, সায়মা ফোন করল। — "তুমি কবে আসবে?" ওর কণ্ঠে একটা উচ্ছ্বাস, একটা অভিমান। তাহসান হাসল, গাড়ির গতি একটু বাড়িয়ে দিল। — "আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপর তোমার কাছেই থাকব!" কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎ একটা জরুরি ডেলিভারির জন্য তাহসানকে পরদিনও রাস্তায় থাকতে হবে। ও মন খারাপ করে সায়মাকে জানাল। সায়মা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, "তাহলে আমিও তোমার সাথে যাব, কেমন?" তাহসান প্রথমে দ্বিধা করেছিল, কিন্তু ওর মন বলছিল, এটা একটা দারুণ সুযোগ একসাথে কিছু সময় কাটানোর। অবশেষে, শুক্রবার সন্ধ্যায় যখন তাহসান লোড নেওয়ার জন্য...

ঈদ উপহার

এবারের ঈদটা আবির -এর কাছে একেবারেই আলাদা। তিন বছর পর ও বাংলাদেশে এসেছে। সেনাবাহিনীতে চাকরির কারণে এতদিন বিদেশে কাটাতে হয়েছে, আর ওর মেহজাবিন -ও ছিল অন্য এক জায়গায় পোস্টেড। যদিও এখনো ওরা এক শহরে নেই, তবু পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বটা কিছুটা হলেও কাছাকাছি এনেছে ওদের। এই ঈদটা একসঙ্গে কাটানোর আনন্দে আবিরের মন দারুণ উত্তেজিত। গতকাল রাতে আবির যখন বাসায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিল, ওর মন কেমন যেন ব্যাকুল হয়ে উঠছিল। কল্পনায় ও ভাবছিল, কেমন হবে অনেক দিন পর মেহজাবিনকে কাছে পাওয়া! ঈদের জন্য সুন্দর করে সাজানো উঠোনে রাখা আমগাছটার নিচে বসে দুজন শুধু নিজেদের মাঝে হারিয়ে যাবে। এই ভাবনায় ওর বুকের ভেতর ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেল। সন্ধ্যার একটু পরেই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। দরজা খুলতেই মেহজাবিনকে দেখে আবির হাসল, কিন্তু ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত মায়া। ও যতটা সম্ভব নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করল, তারপর বলল, "চলো, বাইরে একটু বসি!" উঠোনে রাখা বড় আমগাছটার নিচে বসে দুজন একে অপরের দিকে তাকাল। মেহজাবিনের গায়ে সুন্দর জামদানি শাড়ি, মাথায় একটা হালকা ওড়না। ঈদের আলোয় ওর চেহারা আরও উজ্জ্বল লাগছিল। আবির ধীরে ধীরে ওর হাতটা ধরে বল...

আড়ালের ভালোবাসা

  তানিয়া -র পরিবার ছিল বেশ বড়। বাবা-মা, দাদা-দিদি, দাদু-ঠাকুমা—সব মিলিয়ে বাড়িতে সর্বদা চঞ্চলতা লেগেই থাকত। তাই ওর বাড়িতে গেলে অরুণ -এর সঙ্গে তেমন একটা নির্জনে সময় কাটানো সম্ভব হতো না। কিন্তু সেদিন তানিয়ার চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা ছিল। ওর মিষ্টি হাসির ফাঁকে একটা রহস্য লুকিয়ে ছিল, যা অরুণ সহজেই বুঝতে পারল। রাত হয়ে এসেছিল। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত, কিন্তু তানিয়া হঠাৎই অরুণের হাত ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "আমাদের একটু নিরিবিলিতে কথা বলা দরকার।" অরুণ প্রথমে একটু অবাক হলেও, ওর চোখের চাহনিতে যে গভীরতা ছিল, তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। "কোথায় যাবো?" তানিয়া একটু লাজুক হাসি হেসে বলল, "চলো, আমাদের পুরোনো স্টোররুমটায়।" স্টোররুমটা ছিল একটা ছোট্ট ঘর, যেখানে কেউ তেমন একটা যেত না। অরুণ ওর হাত ধরে ওখানে ঢুকল, আর তানিয়া আস্তে করে দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল। চারপাশে পুরোনো বই, কাঠের তাক, আর কিছু পুরনো আসবাবপত্র রাখা ছিল। সেই ক্ষুদ্র জায়গার মধ্যে দুজন একে অপরের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে গেল। তানিয়ার চোখে এক রোমাঞ্চকর উচ্ছ্বাস খেলা করছিল। অরুণ ওর হাতটা নিজের হাতের ভেতর নিয়ে বলল, ...

ভালোবাসার নতুন ঠিকানা

সুদীর্ঘ কর্মসূত্রে তুরস্কে থাকার পর আমার পরবর্তী গন্তব্য ছিল ভারত —এক ঐতিহাসিক এবং সমৃদ্ধশালী দেশ। এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়িক কাজ, তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি আরও একটি বিশেষ কারণে উত্তেজিত ছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম এখানে থাকা আমার এক পুরনো বন্ধু অরিন্দমের গল্প, যার জীবন এক অবাক করা ভালোবাসার অধ্যায়ে মোড় নিয়েছে। আমাদের দেখা হওয়ার পরিকল্পনা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। আমরা দেখা করলাম কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে । শেষবার আমরা যখন দেখা করেছিলাম, তখন তিনি মুম্বাই -তে কর্মরত ছিলেন এবং সেখান থেকে ব্যবসায়িক কাজে চেন্নাই এসেছিলেন। কিন্তু সেই সফরই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেখানে তিনি লায়লা নামের এক সুন্দরী তরুণীর প্রেমে পড়েন, যে ছিল একটি বড় ব্যবসায়ী সংস্থার ব্যক্তিগত সচিব। লায়লার পরিবার ছিল খ্রিস্টান ক্যাথলিক , তাই তাদের প্রেম নিয়ে পরিবারের কোনো আপত্তি ছিল না। তবে অরিন্দমের বাড়ির লোকজন, বিশেষ করে তার বাবা-মা, ছেলের বিদেশে থাকা ও অন্য সংস্কৃতির মেয়েকে বিয়ে করার ব্যাপারে কিছুটা সংশয়ী ছিলেন। ভালোবাসার পথে বাধা অরিন্দম প্রথমে ভেবেছিল, সে লায়লাকে বিয়ে...

ভালবাসার নতুন অধ্যায়

  শ্রেয়া —একজন ৩২ বছর বয়সী, স্বাধীনচেতা, সদ্য বিবাহবিচ্ছিন্ন এক তরুণী। জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে সে এখন নিজের জন্য কিছু করতে চায়, নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পেতে চায়। তার একসময় সংসার ছিল, ভালোবাসা ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এখন সে মুক্ত, কিন্তু একাকিত্বের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চায় না। সে সিদ্ধান্ত নেয়, এবার সে নিজের মনের কথা শুনবে, নিজের জীবনের রঙ নিজেই আঁকবে। এই নতুন পথচলার মধ্যেই তার মনে পড়ে বিকাশ -এর কথা—একজন সুদর্শন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ, যিনি তার পরিবারের বীমার দায়িত্ব সামলাতেন। বিকাশ একসময় একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু একটি গুরুতর হাঁটুর চোটের কারণে তার কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। এখন তিনি সফল একজন বীমা পরামর্শদাতা। প্রতিবার দেখা হলে শ্রেয়ার মনে হতো, বিকাশের চোখে তার জন্য এক ধরনের প্রশংসা ছিল। একদিন, শ্রেয়া সাহস করে বিকাশের অফিসে ফোন করে। তার কিছু নথিপত্র নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল, বিশেষ করে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বিকাশ তাকে জানায়, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থাকবে এবং শ্রেয়া চাইলে দেরি করে আসতে প...

একটি বিশেষ জন্মদিন

  অভি আর সায়নী , দুজনের গল্প যেন এক ছায়াছবির মতো। তারা একে অপরকে ভালোবাসে, কিন্তু একসঙ্গে থাকার সুযোগ খুব কমই পায়। অভি থাকে মুম্বাই আর সায়নী কলকাতায় । দূরত্ব তাদের ভালোবাসার বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেও, তারা প্রতি মাসে অন্তত একবার একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য সবকিছু ভুলে ছুটে আসে। এই দূরত্বই যেন তাদের ভালোবাসাকে আরও গভীর করেছে, প্রতিটি মুহূর্তকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। এবারের বিশেষ উপলক্ষ ছিল অভির তিরিশতম জন্মদিন । সায়নী পরিকল্পনা করেছিল, এই জন্মদিন হবে একেবারে অন্যরকম। তাই সে কিছু না জানিয়ে একেবারে দিল্লি উড়ে আসে, যেখানে অভি একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস মিটিংয়ে ছিল। অভি কিছুই জানত না, শুধু জানত, তাদের দেখা হবে কলকাতায় এক সপ্তাহ পর। কিন্তু সায়নী অপেক্ষা করতে পারছিল না। অপ্রত্যাশিত চমক অভি যখন তার হোটেল রুমে ঢোকে, তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। সে অফিস থেকে ফিরে কিছুটা ক্লান্ত, কিন্তু সায়নীর সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে খুব। ফোনটা বের করে ডায়াল করতেই দরজায় হালকা টোকা পড়ল। অভি অবাক হয়ে দরজা খুলতেই দেখে—সামনে দাঁড়িয়ে সায়নী, একগাল হাসি নিয়ে। "তুমি! এখানে?!" সায়নী হেসে বলে,...

প্রেমের গভীরতম পরশ

  আমি অনিক , বয়স কুড়ি, উচ্চতা ছয় ফুট, সাধারণ গড়ন, কিন্তু আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ। ভালোবাসার প্রকাশের বিভিন্ন রূপ আছে, কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে মধুর হলো সেই মুহূর্ত, যখন দু'জন মানুষ সম্পূর্ণভাবে একে অপরের মধ্যে হারিয়ে যায়। আমার জীবনে এমন একজন এসেছে, যার সাথে আমার হৃদয়ের প্রতিটি অনুভূতি যেন মিলে গেছে। সায়ন্তিকা , আমার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছের মানুষ। ওর দীর্ঘ কালো চুল, কোমল ত্বক, আর গভীর চোখের দৃষ্টি আমাকে প্রতিবার নতুন করে মুগ্ধ করে। ভালোবাসার প্রস্তুতি প্রতিবার যখন আমরা একসাথে থাকি, ওর প্রতিটি স্পর্শ আমাকে এক নতুন জগতে নিয়ে যায়। আমি ওর কোমল হাতে আমার হাত রাখি, ধীরে ধীরে ওর আঙুলের উষ্ণতা অনুভব করি। সায়ন্তিকা যখন আমার বাহুডোরে আসে, আমি আলতো করে ওর চিবুকে হাত বুলিয়ে দিই। ওর চোখ দুটো স্বপ্নময় হয়ে ওঠে, যেন ওর মনে লুকিয়ে থাকা সব অনুভূতি আমার কাছে খুলে যাচ্ছে। আমি ধীরে ধীরে ওর ঘাড়ে নরম একটা চুমু খাই, তারপর ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলি, "তুমি জানো, তোমার প্রতিটি ছোঁয়া আমাকে সম্পূর্ণ করে তোলে।" ও হালকা হাসে, চোখ নামিয়ে রাখে, আর আমার শার্টের কলারটা মৃদু টেনে ধরে ব...

এক গরম দুপুরে প্রেমের পরশ

আমি একজন লেখক এবং সাংবাদিক, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গল্প, ঘটনা এবং স্মৃতি সংগ্রহ করে আসছি। কিন্তু এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা বিশেষভাবে হৃদয়ে দাগ কেটে যায়। আজ আমি সেই এক দুপুরের গল্প বলবো—একটা উষ্ণ, রোমান্টিক দুপুর, যেখানে ভালোবাসা আর অনুভূতির এক নতুন দিগন্ত খুলে গিয়েছিল। প্রথম দেখা: এক আনন্দের প্রতীক্ষা সেই দিন দুপুরে, আমার প্রেমিকা তনয়া বলল যে সে অফিসের সামনে এসে আমাকে নিয়ে যাবে। ওর সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর সুযোগ পাবো—এই ভাবনাতেই আমি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠেছিলাম। যখন অফিস থেকে বেরিয়ে এলাম, তখনই ওকে দেখলাম—সামনের রোডের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তনয়ার লম্বা কালো চুল বাতাসে দুলছিল, আর তার পরনে ছিল কালো রঙের ফিটিং প্যান্ট আর সাদা-কালো স্ট্রাইপ করা একটি ছোট্ট ব্লাউজ, যা কোমরের ঠিক ওপরে বাঁধা ছিল। ওর চোখে একরাশ উজ্জ্বলতা, যেন সেই মুহূর্তটার অপেক্ষাতেই ছিল। আমি কাছে যেতেই ও মিষ্টি করে হাসল, তারপর বলল, "তুমি কেমন আছো?" আমি ওর হাতটা আলতো করে ধরে বললাম, "তোমাকে দেখার পর যে ভালো লাগছে, সেটা মুখে বলে বোঝানো সম্ভব না।" তনয়া আমার দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর হালকা হে...

শেকড়ের সন্ধানে

আমি একজন সাংবাদিক, আমার কাজ হলো বিভিন্ন দেশ ঘুরে সেখানকার সংস্কৃতি, ইতিহাস, এবং মানুষের গল্প তুলে আনা। এই কাজে আমি আনন্দ পাই, কারণ প্রতিটি দেশে এমন কিছু পাওয়া যায় যা আমার জীবনকে সমৃদ্ধ করে। এবার আমার যাত্রা বাংলাদেশে, যেখানে আমি এই দেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাই। কিন্তু আমি ভাবতেও পারিনি, এই সফরটি শুধু একটি সাধারণ প্রতিবেদন তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি পরিণত হবে এক গভীর, আবেগপূর্ণ ব্যক্তিগত যাত্রায়। একটি আকস্মিক সাক্ষাৎ কক্সবাজারের এক ব্যস্ত শপিং মলে আমি হঠাৎ করেই পরিচিত হই অরুণ এবং মুক্তা নামের এক দম্পতির সঙ্গে। তারা ইহুদি, কিন্তু তাদের শিকড় ভারতের শিলিগুড়িতে। অনেক বছর আগে তারা বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। আমাদের মধ্যে সংযোগ তৈরি হলো খুব দ্রুত। আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলাম, যেন বহু বছর পরে হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মুক্তার চোখে জল দেখা গেল, আর অরুণ বিস্ময়ের সঙ্গে আমার হাত ধরে বললেন, "আপনি শিলিগুড়ি থেকে এসেছেন? আমাদের জন্মভূমির কেউ এখানে, আমাদের সামনে!" এই আকস্মিক সাক্ষাৎ আমাদের বন...

এক আকস্মিক সাক্ষাৎ

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরে একটি আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলাম। সম্মেলনের বিষয় ছিল "রাষ্ট্র ও ধর্ম" । এটি ছিল আমার জন্য একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা, কারণ এতে বিভিন্ন দেশের বুদ্ধিজীবী এবং গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পাই। তবে, আমার এই সফরের সবচেয়ে অবিস্মরণীয় ঘটনা ছিল এক ভারতীয় ব্যক্তির সঙ্গে আকস্মিক সাক্ষাৎ, যিনি বহু বছর আগে দেশ ছেড়ে ব্রাজিলে চলে এসেছিলেন। এটি ছিল কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতের একটি রেস্তোরাঁয়, যেখানে আমার স্ত্রীকে বাংলায় কথা বলতে দেখে এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এলেন। তিনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, — "আপনারা কি বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছেন?" আমি উত্তরে জানালাম, "আমি পশ্চিমবঙ্গ থেকে, আর আমার স্ত্রী বাংলাদেশ থেকে।" বৃদ্ধের চোখে জল এসে গেল। যেন এতদিন পরে তিনি নিজের পরিচিত পৃথিবীর কিছু খুঁজে পেলেন। তার নাম ছিল অনন্ত রায় । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। তিনি তখন একজন সৈনিক ছিলেন, কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে তাকে দেশদ্রোহী বলা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ও ...