
শ্রেয়া—একজন ৩২ বছর বয়সী, স্বাধীনচেতা, সদ্য বিবাহবিচ্ছিন্ন এক তরুণী। জীবনের কঠিন এক অধ্যায় পেরিয়ে সে এখন নিজের জন্য কিছু করতে চায়, নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পেতে চায়। তার একসময় সংসার ছিল, ভালোবাসা ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এখন সে মুক্ত, কিন্তু একাকিত্বের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চায় না। সে সিদ্ধান্ত নেয়, এবার সে নিজের মনের কথা শুনবে, নিজের জীবনের রঙ নিজেই আঁকবে।
এই নতুন পথচলার মধ্যেই তার মনে পড়ে বিকাশ-এর কথা—একজন সুদর্শন, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ, যিনি তার পরিবারের বীমার দায়িত্ব সামলাতেন। বিকাশ একসময় একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ছিলেন, কিন্তু একটি গুরুতর হাঁটুর চোটের কারণে তার কেরিয়ার শেষ হয়ে যায়। এখন তিনি সফল একজন বীমা পরামর্শদাতা। প্রতিবার দেখা হলে শ্রেয়ার মনে হতো, বিকাশের চোখে তার জন্য এক ধরনের প্রশংসা ছিল।
একদিন, শ্রেয়া সাহস করে বিকাশের অফিসে ফোন করে। তার কিছু নথিপত্র নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল, বিশেষ করে তার বিবাহবিচ্ছেদের পর বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বিকাশ তাকে জানায়, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থাকবে এবং শ্রেয়া চাইলে দেরি করে আসতে পারে।
অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত
পরের দিন, সন্ধ্যার দিকে শ্রেয়া বিকাশের অফিসে পৌঁছায়। বাইরে "Closed" লেখা থাকলেও বিকাশ দরজা খুলে তাকে স্বাগত জানায়। অফিসের ভেতরে ঢুকতেই বিকাশ হাসিমুখে বলে, "তুমি এসেছ দেখে খুব ভালো লাগছে। কেমন আছ?"
শ্রেয়া একটু লাজুক হেসে বলে, "ভালো, তোমার সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম।"
বিকাশ তাকে বসতে বলে, কিন্তু তার চোখে এক ধরনের কৌতূহল খেলে যায়। আজ শ্রেয়ার সাজ ছিল একটু অন্যরকম—সীমিত অথচ মার্জিত, যেন নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করার একটা চেষ্টা। বিকাশ কিছুক্ষণ চুপ করে তাকে দেখল, তারপর বলল, "তুমি আজ অন্যরকম লাগছে। নতুন শ্রেয়াকে দেখে ভালো লাগছে।"
শ্রেয়ার মনে এক অদ্ভুত আনন্দ খেলে গেল। সে হেসে বলল, "নতুন জীবনে পা দিয়েছি, নিজেকে একটু নতুনভাবে দেখাতে ইচ্ছে করল।"
ঘনিষ্ঠতার শুরু
কথার ফাঁকেই বিকাশের হাত হঠাৎ করে কাঁপতে থাকা কাগজের উপর থেকে সরে আসে, যেন সে কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে। শ্রেয়া ধীরে ধীরে তার চেয়ার থেকে উঠে এসে বিকাশের ডেস্কের সামনে দাঁড়ায়।
"তোমার সঙ্গে কথা বলতে সবসময়ই ভালো লাগে," সে মৃদুস্বরে বলে।
বিকাশ তাকিয়ে থাকে, তার চোখে মুগ্ধতা স্পষ্ট।
"তুমি জানো, শ্রেয়া, তুমি অসাধারণ একজন নারী। এত কঠিন সময় পার করে এসেছ, তবুও তোমার হাসিটা ঠিক আগের মতোই উজ্জ্বল।"
শ্রেয়া একটু লজ্জা পায়, কিন্তু বিকাশের কথায় তার ভেতরে একটা উষ্ণ অনুভূতি তৈরি হয়।
"তুমি আমাকে এত ভালো বোঝো?"
"হয়তো!" বিকাশ মৃদু হেসে বলে, "কিছু মানুষকে বোঝার জন্য খুব বেশি সময় লাগে না।"
এই কথাগুলো শ্রেয়ার মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি সৃষ্টি করল। এতদিন পর কেউ তার সম্পর্কে এত গভীরভাবে ভেবেছে!
ভালোবাসার আবেগ
বিকাশ আলতো করে শ্রেয়ার হাত ধরল। তার উষ্ণ স্পর্শে শ্রেয়ার হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল।
"তুমি কি নতুন জীবনের এই যাত্রায় একা থাকতে চাও?" বিকাশ জিজ্ঞেস করল।
শ্রেয়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর আস্তে করে বলল, "আমি জানি না। কিন্তু আমি জানি, আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভালোবাসি, তোমার সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসি।"
বিকাশ হালকা হাসল, তারপর বলল, "তাহলে আমরা একসঙ্গে সময় কাটাতে পারি, যদি তুমি চাও?"
শ্রেয়া মাথা নাড়ল, "হয়তো সেটাই আমার দরকার ছিল।"
সন্ধ্যার আলো নিভে আসছিল, আর বিকাশের অফিসের ছোট জানালা দিয়ে চাঁদের আলো পড়ছিল তাদের উপর। তারা দুজনই জানত, এই মুহূর্তটি বিশেষ, এই বন্ধনটি শুধুই বন্ধুত্বের নয়—এটি ছিল নতুন এক ভালোবাসার শুরু।
সেদিন রাতে শ্রেয়া যখন বাড়ি ফিরছিল, তার মনে পড়ছিল বিকাশের হাসি, তার কথা, তার চোখের গভীরতা।
সে নিজেকেই প্রশ্ন করল—"এই কি আমার জীবনের নতুন অধ্যায়?"
একটা মিষ্টি হাসি ফুটল তার ঠোঁটে। হয়তো সত্যিই তাই...
শেষ।
এই গল্পে শ্রেয়া তার পুরনো জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন করে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছে। বিকাশ শুধু তার জীবনে একজন বিশেষ মানুষ নয়, বরং এক নতুন ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি। এটা শুধুমাত্র আকর্ষণের গল্প নয়, বরং আবেগ, বিশ্বাস, আর নতুন করে বাঁচার গল্প।
তোমার কেমন লাগল?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন