
অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও দীপকের দিকে তাকালে হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত সায়নার। কয়েক সপ্তাহ হলো তাদের বন্ধুত্ব একটু ভিন্ন মোড় নিয়েছে, কিন্তু সায়না জানে—এই সম্পর্ক তার জীবনকে বদলে দেবে চিরদিনের জন্য।
সবকিছু শুরু হয়েছিল এক দুপুরের বিরতিতে। দীপক সায়নাকে বলল, "চলো, ব্যাংকে যেতে হবে, তুমি সঙ্গ দেবে?"
সায়না কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। দীপকের গাড়িতে উঠতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত উত্তেজনা, এক মিষ্টি টান। অফিসে ব্যস্ততার কারণে সারাদিন ওদের মধ্যে খুব কম কথাই হয়, তাই দীপকের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে ওর মন আনন্দে নেচে উঠল।
ড্রাইভের সময় দীপকের দৃঢ় হাতে স্টিয়ারিং চাকা ধরার ভঙ্গিটা সায়নার মনে একরকম শিহরণ জাগাল। ওর মনের মাঝে একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। গাড়িতে বসে সে দীপকের দিকেই তাকিয়ে রইল। দীপক ব্যাংকে কাজ সেরে যখন ফিরে এল, তখন ওর হেঁটে আসার দৃশ্য দেখে সায়নার বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগল। দীপকের সুগঠিত শরীর, চোখের সেই গভীরতা—সব মিলিয়ে ও যেন এক মোহময় মানুষ।
গাড়িতে উঠে দীপক একঝলক তাকিয়েই বুঝতে পারল সায়নার মনের অবস্থা।
— "কী হলো? চুপ করে আছো কেন?" দীপক মুচকি হাসল।
— "তোমার সঙ্গে সময় কাটালে, আমার কথা বলারও ইচ্ছে করে না," সায়না ধীরে বলল।
গাড়ি চলতে লাগল, কিন্তু ওদের মধ্যে যেন এক অদৃশ্য আগুন জ্বলছিল। দীপকের হাত এসে নামল সায়নার উরুতে। সেই স্পর্শে সায়নার শরীরে যেন একটা শিহরণ বয়ে গেল। ওরা মুখে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিল, কিন্তু মনের ভেতর একটা ঝড় বইছিল।
নিষিদ্ধ ভালোবাসার এক দুপুর
সায়নার হাতও ধীরে ধীরে দীপকের হাতের ওপর রাখল, তারপর ধীরে ওর বাহু বেয়ে আরও উপরে নিয়ে গেল। গাড়ির ভিতর যেন একটা অন্যরকম উষ্ণতা তৈরি হচ্ছিল। দীপক একহাতে গাড়ি চালাচ্ছিল, আর অন্য হাতে সায়নার হাতের স্পর্শ অনুভব করছিল।
— "আমরা কি একটু কোথাও থামতে পারি?" দীপক একটু হেসে বলল।
— "অফিসের পার্কিং লটটা কেমন হয়?" সায়না মৃদু স্বরে বলল।
কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা পার্কিং লটে এসে গাড়ি থামাল। বাইরের দুনিয়াটা তখন ওদের কাছে তুচ্ছ লাগছিল। দীপক সায়নার চুলে হাত বুলিয়ে দিল, আর সায়না ওর বুকের কাছে মাথা রেখে বলল, "তোমার কাছে এলেই কেন জানি নিজেকে সম্পূর্ণ মনে হয়!"
দীপক আলতো করে ওর মুখটা তুলে ধরল, চোখে চোখ রাখল।
— "তোমাকে কাছে পাওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা, সায়না!"
ওদের নিঃশ্বাস একসাথে মিশে গেল, সময় যেন থমকে দাঁড়াল। সায়না দীপকের কাঁধে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "আমাদের কি একটু বেশি সময় থাকা উচিত ছিল একসাথে?"
দীপক ওর কপালে একটা গভীর চুমু দিয়ে বলল, "যতক্ষণ তোমার পাশে থাকব, ততক্ষণই সময়টা আমাদের জন্য বিশেষ!"
এক অমলিন স্মৃতি
দুপুরের সেই গোপন মুহূর্তে ওরা দুজনেই নিজেদের হারিয়ে ফেলল ভালোবাসার গভীর সাগরে। বাইরে গাড়ির কাচে সূর্যের আলো পড়ছিল, মাঝে মাঝে গাড়ি চলে যাচ্ছিল, কিন্তু ওরা ছিল নিজেদের জগতে।
একসময় বাস্তবে ফিরতে হলো। দীপকের তিনটায় মিটিং ছিল। সায়না হেসে বলল, "তুমি কি মিটিংয়ে যেতে পারবে ঠিকঠাক?"
দীপক মুচকি হেসে বলল, "তুমি থাকলে আমি সবকিছু সামলে নিতে পারব!"
গাড়ির আয়নায় নিজেদের একটু গুছিয়ে নিয়ে ওরা অফিসের দিকে রওনা দিল। বাইরে থেকে সব স্বাভাবিক লাগলেও, সেদিনের সেই দুপুরের স্মৃতি ওদের মনে চিরকাল জেগে থাকবে—একটা নিষিদ্ধ অথচ অপার ভালোবাসার মুহূর্ত।
এখনও পর্যন্ত ওদের সম্পর্কটা অফিসের সবার কাছে অজানা, কিন্তু সায়না মনে মনে জানে—যেদিন এই গোপনতা ফাঁস হবে, সেদিন পুরো অফিসের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে তাদের এই প্রেমের গল্প!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন