সূচনা: বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা
ঢাকা শহরের ধুলোবালি আর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত আসে যা জীবনকে আমূল বদলে দেয়। নীলার জীবনে হেনরি (সায়েম) ছিল সেই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো—অপ্রত্যাশিত কিন্তু অনিবার্য। তাদের পরিচয়ের পর থেকে গত তিন মাসে নীলা এক অন্য জগতে বাস করছে। সায়েমকে দেখার পর থেকে তার ভেতরে এমন এক সুপ্ত কামনার জন্ম হয়েছে, যা সে আগে কখনও অনুভব করেনি। গত সাত মাস কোনো পুরুষের ছোঁয়া না পাওয়া শরীরটা যেন কেবল সায়েমের অপেক্ষাতেই ছিল।
নীলা জানত না সায়েমের মধ্যে কী এমন জাদুকরী শক্তি আছে, কিন্তু তার গভীর চোখের চাউনি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর নীলার দীর্ঘদিনের সাজানো ‘সংকল্প’ বা 'রেজোলিউশন' ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল।
প্রথম রাতের সেই উন্মাদনা
সেদিন ছিল এক মেঘলা রাত। নীলার ড্রয়িংরুমে বসে তারা কফি খাচ্ছিল। নীলার মনে কোনো অভিসন্ধি ছিল না; সে কেবল সায়েমের সান্নিধ্য চেয়েছিল। কিন্তু সায়েম যখন কাছে এসে নীলার কপালে আলতো করে চুমু খেল এবং খুব ধীর স্বরে কথা বলতে শুরু করল, নীলা যেন সম্মোহিত হয়ে গেল। সায়েমের পুরুষালি সুবাসে নীলা মাতাল হয়ে যাচ্ছিল।
নীলা নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সায়েমের হাতের ছোঁয়া যখন তার শরীরে লাগল, তার সব প্রতিরোধ বাঁধ ভেঙে গেল। সায়েম যখন তাকে আলতো করে শুইয়ে দিয়ে তার চোখের দিকে তাকাল, নীলা বুঝতে পারল আজ আর ফেরার পথ নেই। সায়েম ফিসফিস করে বলল, “তুমি জানো তুমি এটা চাও।” নীলা প্রতিবাদ করতে পারল না, কারণ তার শরীর ততক্ষণে সায়েমের উত্তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সায়েম যখন ধীরে ধীরে নীলার পোশাকগুলো সরিয়ে তার একান্ত ব্যক্তিগত স্থানে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ালো, নীলার মনে হলো সে আগুনের শিখায় পুড়ছে। সায়েমের জিভের কাজ ছিল অবিশ্বাস্যভাবে দক্ষ। নীলা উত্তেজনায় শিউরে উঠছিল, তার মুখ দিয়ে অজান্তেই আনন্দের গোঙানি বেরিয়ে আসছিল। যখন সায়েম অবশেষে তার ভেতরে প্রবেশ করল, নীলা এক পরম তৃপ্তিতে চোখ বুজে ফেলল। সায়েমের দৃঢ় অস্তিত্ব তাকে পূর্ণতা দিল। তারা একে অপরের মাঝে হারিয়ে গেল এক দীর্ঘ সময়ের জন্য।
শোবার ঘরের দীর্ঘ মায়াজাল
সেই প্রথম মিলনের রেশ কাটতে না কাটতেই তারা শোবার ঘরে চলে গেল। পরবর্তী দুই থেকে তিন ঘণ্টা তারা ভালোবাসার এমন এক যুদ্ধে মেতে উঠল, যা নীলার কল্পনার বাইরে ছিল। সায়েম যেন একজন অভিজ্ঞ শিল্পী, যে নীলার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে নতুন নতুন সুর তুলছিল। নীলা বারবার চাইছিল সেই মুহূর্তগুলো যেন কখনও শেষ না হয়। সায়েমের শক্তির কাছে নীলা বারবার হার মানছিল এবং সেই পরাজয়েই সে খুঁজে পাচ্ছিল পরম সুখ।
একবার মিলনের সময় তারা বিছানার মাঝামাঝি থেকে শুরু করলেও সায়েমের তীব্র ধাক্কায় নীলা বিছানার কিনারে চলে এল। সায়েম তাকে টেনে নিয়ে নিজের ওপর বসাল। সেই অবস্থায় তাদের চুমু আর আলিঙ্গন যেন ছিল এক অনন্ত তৃষ্ণার বহিঃপ্রকাশ। নীলা সায়েমের ওপর চড়ে যখন দোল খাচ্ছিল, তখন তার মনে হচ্ছিল এই পৃথিবীর আর কিছুরই প্রয়োজন নেই।
সায়েম যখন নীলার স্তনগুলো নিজের মুখে নিয়ে আদর করছিল, নীলা ফিসফিস করে বলছিল, “আমাকে আরও হাজারবার এভাবে ভালোবাসো সায়েম।” সায়েম হাসল, সেই হাসিতে ছিল এক অদ্ভুত অধিকারবোধ। সে বলল, “হাজারবার কেন? আমি তোমাকে তিন হাজার বার ভালোবাসব।” সায়েমের এই প্রতিশ্রুতি নীলার হৃদয়ে এক স্বর্গীয় আনন্দের সঞ্চার করল।
সেই বাথরুমের গোপন দুপুর
গত রবিবার ছিল এক বিশেষ দিন। সায়েম নীলাকে বাথরুমে ডেকে পাঠাল। নীলা ভেতরে গিয়ে দেখল সায়েম সিঙ্কের ওপর বসে আছে। সায়েমের সেই বলিষ্ঠ রূপ দেখে নীলা নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে হাঁটু গেড়ে বসে সায়েমের পুরুষত্বকে নিজের মুখে নিল। নীলা তাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে পরম আদরে সেবা করল। সায়েমের চেহারার পরিবর্তন, তার নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া—সবকিছুই নীলাকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলছিল।
নীলা একসময় দাঁড়িয়ে সায়েমকে বলল তার শরীরের ভিজে ওঠা অংশটি অনুভব করতে। সায়েম দেরি করল না, সে নীলাকে বাথটাবের ভেতরে দাঁড় করিয়ে দিল। নীলা সায়েমের দিকে পিঠ দিয়ে তার ওপর বসে পড়ল। সায়েমের প্রতিটি আঘাত ছিল যেন বিদ্যুৎ চমকানোর মতো। নীলা উত্তেজনায় কাঁপছিল। যখন সে চরম সীমায় পৌঁছাল, সায়েম তাকে নিচু হতে বলল। পেছন থেকে সায়েমের সেই তীব্র ও ছন্দময় আঘাতগুলো নীলাকে দ্বিতীয়বার অর্গ্যাজমের স্বাদ দিল। দীর্ঘ ২০ মিনিটের সেই উন্মাতাল খেলার পর তারা যখন মেঝের ওপর এল, সায়েম তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে নীলার ভেতরে নিজেকে সঁপে দিল। নীলা জানত, এরপর থেকে যখনই সে এই বাথরুমে ঢুকবে, সায়েমের এই তীব্র ভালোবাসার কথা তার বারবার মনে পড়বে।
না হওয়া ফ্যান্টাসি ও আগামীর স্বপ্ন
নীলার মনের ভেতরে এখন কেবল আগামীর স্বপ্ন। তারা দুজনে মিলে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা করেছে যা এখনও বাকি। নীলার এক বিশেষ ফ্যান্টাসি হলো সায়েমের শরীরের ওপর আইসক্রিম সানডায়ে, হুইপড ক্রিম আর চকোলেট সিরাপ দিয়ে তাকে সাজিয়ে তোলা। সে নিজেকে একজন ‘সেক্স থেরাপিস্ট’ হিসেবে কল্পনা করে, যে কালো চামড়ার পোশাকে সায়েমকে প্রলুব্ধ করবে।
তাদের ডায়েরিতে আরও অনেক পরিকল্পনা জমা হয়েছে:
বনের নির্জনতায়: শহরের কোলাহল ছেড়ে দূরে কোথাও প্রকৃতির মাঝে একে অপরকে আবিষ্কার করা।
গাড়ির ভেতরে: চলন্ত অবস্থায় বা কোনো নির্জন রাস্তায় গাড়ির ভেতরে রোমাঞ্চকর মিলন।
অফিসের কেবিন: সব কাজের ফাঁকে এক চিলতে নিষিদ্ধ উত্তেজনা।
সুগন্ধি তেল: সারা শরীরে সুগন্ধি তেল মেখে একে অপরকে ম্যাসাজ দেওয়া এবং পিচ্ছিল শরীরে কামনার গভীরে ডুবে যাওয়া।
নীলা জানে, সায়েম তার প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ করবে। তাদের এই শারীরিক এবং মানসিক টান কেবল সাময়িক নয়, বরং তা এক গভীর বন্ধন যা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে। নীলা কেবল সময়ের অপেক্ষা করছে, কখন সে আবার সায়েমের বাহুবন্দি হয়ে তার হাজারো ফ্যান্টাসিকে বাস্তবে রূপ দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন