সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অসম্পূর্ণ সম্পর্ক

  সায়নী আর রাহুলের পরিচয় কলেজের প্রথম বর্ষে। দুজনেই ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র, বই পড়ার প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল তাদের। লাইব্রেরিতে একসঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় কবিদের নিয়ে আলোচনা করা, আর গভীর রাতে ফোনে সাহিত্য নিয়ে তর্ক করা—এসবের মধ্য দিয়েই বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছিল। কিন্তু বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়, যদিও তারা নিজেরাও প্রথমে সেটা বুঝতে পারেনি। রাহুল লম্বা, ছিপছিপে, আর স্বভাবের দিক থেকে বেশ গম্ভীর। অন্যদিকে, সায়নী ছিল প্রাণবন্ত, সবকিছুতে নতুনত্ব খোঁজার প্রবণতা ছিল তার। দুজনের মধ্যে যেমন মিল ছিল, তেমনই কিছু পার্থক্যও ছিল, যা তাদের সম্পর্ককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। এক্সপেরিমেন্টের শুরু এক সন্ধ্যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে বসে গান শুনতে শুনতে রাহুল হঠাৎ বলল, — "তুমি কি কখনও ভেবেছো, আমরা যদি আলাদা আলাদা মানুষদের সঙ্গে কিছু অভিজ্ঞতা নিই, তাহলে কেমন হবে?" সায়নী প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিল। — "মানে?" রাহুল একটু হেসে বলল, — "আমি চাই তুমি নতুন কিছু অনুভব করো। অন্যদের সঙ্গে সময় কাটাও। এতে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।" সায়নী দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু কৌত...

শিল্প ও আকাঙ্ক্ষার গল্প

প্রথম পরিচয় সন্ধ্যাটা ছিল একদম নিখুঁত। গ্রীষ্মের নরম বাতাস বইছিল, আর সূর্যের আলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। অনন্যা একজন শিল্পী। তার ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টের দেয়ালে নিজের আঁকা ছবি সাজানো। প্রতিটি ছবির মধ্যে এক ধরনের গোপন গল্প লুকিয়ে আছে—তার আবেগ, তার আকাঙ্ক্ষা, তার অপরাধবোধ। তার স্বামী, অরিন্দম, ওরকম গোঁড়া মানুষ নয়। সে বরং অনন্যার স্বাধীনতা ও ইচ্ছাকে সম্মান করে। তারা দুজনই জানতো যে তাদের সম্পর্কের গভীরে এক নতুন মাত্রা যোগ করা দরকার। সেই কারণেই তারা হটওয়াইফিং নিয়ে প্রথমবার কথা বলে। "তুই কি সত্যিই ভাবিস যে এটা আমাদের সম্পর্কের জন্য ভালো হবে?" একদিন বিকেলে কফির কাপে চুমুক দিয়ে প্রশ্ন করেছিল অনন্যা। অরিন্দম হাসল, "আমি শুধু চাই তুই খুশি থাক। সম্পর্কের মধ্যে যদি নতুন অনুভূতি আসে, তাহলে ক্ষতি কোথায়?" শুরুটা শিহরণ জাগানো প্রথমদিকে অনন্যা একটু দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু কৌতূহল ও উত্তেজনা ধীরে ধীরে তার মধ্যে বাড়ছিল। সে নিজের জন্য কিছু সুন্দর পোশাক কিনল—একটা খোলা গলা ব্লাউজ আর কালো জিন্স, যা ওর শরীরের প্রতিটি বাঁক ফুটিয়ে তোলে। এক রাতে, দুজনেই খোলামেলা হয়ে নিজেদের পুরনো ...

অপ্রত্যাশিত আকর্ষণ

পরিচয় সপ্তাহের প্রতিদিনের মতোই শনিবারের সকালটা শুরু হয়েছিল। কফি শপের জানালা দিয়ে সূর্যের মৃদু আলো পড়ছিল, আর বৃষ্টি আসার সম্ভাবনায় আকাশটা মেঘলা হয়ে উঠছিল। অনন্যা নিজের কাপে চুমুক দিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে রইল। তার পাশে বসা ছিল তার প্রিয় বান্ধবী, সোহিনী। "তোর আর অমিতের সম্পর্কটা আসলে কেমন?" হঠাৎই সোহিনী প্রশ্ন করলো। "মানে?" অনন্যা চমকে গেল। "মানে, তুই কি সত্যিই খুশি? নাকি তোর মনে কিছু অজানা আকাঙ্ক্ষা আছে?" অনন্যা জানত যে সোহিনী সাধারণত এমন স্পষ্ট কথা বলে না। সে একটু অস্বস্তিতে পড়ল, কিন্তু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করল। "আমাদের সম্পর্ক ভালোই তো, সোহিনী। কিন্তু…" "কিন্তু কী?" অনন্যা জানত যে সে সত্য গোপন করতে পারবে না। তার মনের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন চলছিল। সে একদিকে অমিতকে ভালোবাসত, অন্যদিকে তার ভেতরে যেন একটা কল্পনার জগৎ তৈরি হচ্ছিল। আর সেই কল্পনায় এক নতুন মানুষ জায়গা করে নিচ্ছিল—রাহুল। কল্পনা বনাম বাস্তবতা রাহুল একটা ক্যাফেতে কাজ করত। হালকা দাড়ি, চওড়া কাঁধ, আর চোখে একটা গভীরতা—যে কোনো মেয়ের হৃদয় কাঁপানোর...

প্রতিবেশী নেহা

  সকালবেলার নরম রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করছিল। বিশাল নতুন ফ্ল্যাট কমপ্লেক্স, যেখানে প্রতিটি ফ্ল্যাট একে অপরের প্রতিচ্ছবি। এক পাশে ছিল অভিজিতের ফ্ল্যাট, আর অন্য পাশে সদ্য নতুন ভাড়া নেওয়া এক দম্পতির ফ্ল্যাট। অভিজিৎ একা থাকত, কলকাতার ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে এসে স্থায়ী ঠিকানা বানিয়েছিল এই নতুন এলাকায়। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার সুবাদে অনেক সময় ঘরে একাই কাটত তার। একদিন সকালে শেভ করতে করতে হঠাৎই তার চোখ পড়ল সামনের ফ্ল্যাটের জানালার দিকে। ওখানেও একটা জানালা খোলা ছিল, আর ঝাপসা কাঁচের ওপাশে দেখা যাচ্ছিল এক নারীর অবয়ব। লম্বা চুল, সুঠাম গড়ন—শুধু অবয়বেই বোঝা যাচ্ছিল, ও পাশের মানুষটি এক নারী। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল, কিন্তু কাঁচের ঝাপসা ভাবের কারণে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। কৌতূহল একটু বাড়লেও, সে আবার নিজের কাজে মন দিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখ আবার চলে গেল ওই জানালার দিকে। এবার আর ঝাপসা জানালার আড়ালে নয়, সোজা তার ফ্ল্যাটের সামনের জানালার পর্দা সরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এক মহিলা। নেহা! গায়ে শুধু একটা তোয়ালে জড়ানো, ভেজা চুল কাঁধে এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। মেয়েটি নিশ্চয়ই স্নান ক...