সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রতিবেশী নেহা

download-15

 সকালবেলার নরম রোদ জানালার ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করছিল। বিশাল নতুন ফ্ল্যাট কমপ্লেক্স, যেখানে প্রতিটি ফ্ল্যাট একে অপরের প্রতিচ্ছবি। এক পাশে ছিল অভিজিতের ফ্ল্যাট, আর অন্য পাশে সদ্য নতুন ভাড়া নেওয়া এক দম্পতির ফ্ল্যাট। অভিজিৎ একা থাকত, কলকাতার ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে এসে স্থায়ী ঠিকানা বানিয়েছিল এই নতুন এলাকায়। ওয়ার্ক ফ্রম হোম করার সুবাদে অনেক সময় ঘরে একাই কাটত তার।

একদিন সকালে শেভ করতে করতে হঠাৎই তার চোখ পড়ল সামনের ফ্ল্যাটের জানালার দিকে। ওখানেও একটা জানালা খোলা ছিল, আর ঝাপসা কাঁচের ওপাশে দেখা যাচ্ছিল এক নারীর অবয়ব। লম্বা চুল, সুঠাম গড়ন—শুধু অবয়বেই বোঝা যাচ্ছিল, ও পাশের মানুষটি এক নারী।

সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল, কিন্তু কাঁচের ঝাপসা ভাবের কারণে কিছুই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। কৌতূহল একটু বাড়লেও, সে আবার নিজের কাজে মন দিল। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই চোখ আবার চলে গেল ওই জানালার দিকে। এবার আর ঝাপসা জানালার আড়ালে নয়, সোজা তার ফ্ল্যাটের সামনের জানালার পর্দা সরিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এক মহিলা।

নেহা!

গায়ে শুধু একটা তোয়ালে জড়ানো, ভেজা চুল কাঁধে এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে। মেয়েটি নিশ্চয়ই স্নান করে বেরিয়েছে, এবং তার ঘরের পর্দা টানার কথাটা মনেই ছিল না। অভিজিৎ বোকার মতো তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। নেহার ত্বক কেমন চকচক করছিল, যেন সূর্যের আলোয় সোনালী আভা পড়েছে। সে জানত, এভাবে কারও দিকে তাকানো ঠিক নয়, কিন্তু দৃষ্টি সরাতেও পারছিল না।

নেহা ধীরে ধীরে তোয়ালেটা খুলে বিছানার ওপর রাখল। অভিজিৎ মনে মনে শপথ করল, এবার চোখ সরাতেই হবে। কিন্তু শরীর যেন অবশ হয়ে গেল তার। নেহার ঘরটা একদম তার ঘরের উল্টো দিকে, দূরত্ব খুব বেশি নয়। এতটা কাছ থেকে সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল, নেহার নিটোল ত্বক, কমনীয় শরীর, আর নিখুঁত বাঁক।

কিছুক্ষণ পর নেহা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াতে লাগল। এরপর একটা লাল শাড়ি বের করল আলমারি থেকে। শাড়িটা পরে সে আয়নার সামনে ঘুরে দাঁড়াল, তারপর একবার জানালার দিকে তাকাল।

সরাসরি অভিজিতের চোখের দিকে!

তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এল। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, নেহার চোখেমুখে বিরক্তি ছিল না। বরং একটা রহস্যময় হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটের কোণে।

সেদিন রাতে অভিজিৎ ঠিক করল, নেহার সাথে একটু কথা বলা দরকার। এতদিন শুধু দূর থেকে দেখেছে, কিন্তু আজকের পর তার মনে হলো, তাদের মধ্যে অদৃশ্য একটা যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

প্রথম দেখা

পরের দিন সন্ধ্যায়, ফ্ল্যাটের নিচে পার্কিং লটে দেখা হয়ে গেল নেহার সাথে। অভিজিৎ একটু দ্বিধায় ছিল, কিন্তু নেহা যেন খুব স্বাভাবিক ভাবেই এগিয়ে এলো।

“আপনি নতুন এসেছেন, তাই না?”

অভিজিৎ একটু হেসে বলল, “হ্যাঁ, মাস ছয়েক হলো।”

“আমি নেহা। এই ফ্ল্যাটেই থাকি, আমার স্বামীর সাথে।”

স্বামী! কথাটা শুনে অভিজিতের বুকের ভেতর কেমন যেন শূন্যতা তৈরি হলো।

“আমি অভিজিৎ।”

নেহা হেসে বলল, “কাল আপনাকে দেখেছিলাম, জানালার ওপারে।”

এমন খোলাখুলি স্বীকারোক্তি শুনে অভিজিৎ কিছুক্ষণ চুপ করে গেল।

“আমি… আসলে…”

“উহু! কিছু বলার দরকার নেই।” নেহা তার হাত দিয়ে অভিজিতের বাহুতে আলতো করে স্পর্শ করল। “মানুষের চোখ সবসময় সেখানেই আটকে যায়, যেখানে কিছু আকর্ষণীয় থাকে।”

এই বলে সে চলে গেল, তার শাড়ির আঁচল বাতাসে উড়ে উঠল এক মুহূর্তের জন্য।

নিষিদ্ধ আকর্ষণ

এরপর থেকে দেখা হওয়াটা যেন এক অদ্ভুত খেলা হয়ে দাঁড়াল। জানালার ও-পার থেকে একরকম ইঙ্গিতপূর্ণ চোখাচোখি, সিঁড়ির মোড়ে আচমকা দেখা হয়ে যাওয়া, কিংবা একসাথে লিফটে উঠলে নিঃশব্দ কিছু মুহূর্ত।

একদিন রাতে অভিজিৎ বারান্দায় বসে ছিল, আর তখনই পাশের বারান্দা থেকে ফিসফিস করে একটা ডাক এল।

“অভি…”

সে চমকে তাকাল। নেহা দাঁড়িয়ে ছিল, হালকা নীল রঙের একটা নাইটি পরে। চুল খোলা, চোখে এক অদ্ভুত ঝলক।

“কী করছিলেন?”

“কিছু না… একটু হাওয়া খাচ্ছিলাম।”

“আমিও।”

নিঃশব্দ কিছু মুহূর্ত পেরিয়ে গেল। নেহা একবার চারপাশ দেখে নিয়ে আস্তে আস্তে বলল, “আমার স্বামী এখন বাইরে গেছে, ফিরতে রাত হবে।”

অভিজিৎ অনুভব করল, তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে।

“আমি একা থাকা একদম পছন্দ করি না,” নেহা বলল, তার কণ্ঠে কেমন যেন দুষ্টুমি মেশানো ছিল।

এই কথাটাই যেন সীমারেখা মুছে দিল।

সীমানার ওপারে

রাত বাড়ার সাথে সাথে, অভিজিৎ নিজের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে নেহার ফ্ল্যাটের দিকে তাকাল। মিনিট খানেক পর, নেহা নিজেই দরজা খুলে দিল।

ভেতরে ঢুকতেই নেহা ধীরে ধীরে দরজা বন্ধ করল।

“আমি জানতাম, তুমি আসবে,” সে ফিসফিস করে বলল।

তারপর কোনো কথা না বলে, এক মুহূর্তের মধ্যে অভিজিতের ঠোঁটের ওপরে নিজের ঠোঁট চেপে দিল।

নিষিদ্ধ আকর্ষণ, প্রতিরোধহীন অভিসার—সব মিলিয়ে এক গভীর রাতের শুরু।

শেষ অধ্যায়

ভোরের দিকে, অভিজিৎ নেহার বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে সূর্যের প্রথম আলো পড়ছিল তাদের দুজনের ওপর।

নেহা বিছানায় শুয়ে থেকে বলল, “এখন কী হবে?”

অভিজিৎ জানত, এই সম্পর্কের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। কিন্তু এও জানত, এমন রাতগুলো বারবার ফিরে আসবে, যতক্ষণ না কেউ বাধা সৃষ্টি করে।

নেহা ধীরে ধীরে তার বিছানার পাশে রাখা আংটিটা খুলে টেবিলের ওপর রাখল।

“আমি কখনও চাইনি, কিন্তু আমার জীবনটা এমনই,” সে বলল, বিষাদভরা কণ্ঠে।

অভিজিৎ তার হাত চেপে ধরল।

“আমরা যা করেছি, তার জন্য হয়তো অনুশোচনা হবে, কিন্তু এই মুহূর্তটা তো সত্যি, তাই না?”

নেহা একটুও দ্বিধা না করে বলল,

“হ্যাঁ, একদম সত্যি।”

(সমাপ্ত)

Concept Arts


download-11

download-12

download-13

download-14

download-15

download-16

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দুপুরের ভালবাসা

  অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও দীপকের দিকে তাকালে হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত সায়নার। কয়েক সপ্তাহ হলো তাদের বন্ধুত্ব একটু ভিন্ন মোড় নিয়েছে, কিন্তু সায়না জানে—এই সম্পর্ক তার জীবনকে বদলে দেবে চিরদিনের জন্য। সবকিছু শুরু হয়েছিল এক দুপুরের বিরতিতে। দীপক সায়নাকে বলল, "চলো, ব্যাংকে যেতে হবে, তুমি সঙ্গ দেবে?" সায়না কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। দীপকের গাড়িতে উঠতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত উত্তেজনা, এক মিষ্টি টান। অফিসে ব্যস্ততার কারণে সারাদিন ওদের মধ্যে খুব কম কথাই হয়, তাই দীপকের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে ওর মন আনন্দে নেচে উঠল। ড্রাইভের সময় দীপকের দৃঢ় হাতে স্টিয়ারিং চাকা ধরার ভঙ্গিটা সায়নার মনে একরকম শিহরণ জাগাল। ওর মনের মাঝে একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। গাড়িতে বসে সে দীপকের দিকেই তাকিয়ে রইল। দীপক ব্যাংকে কাজ সেরে যখন ফিরে এল, তখন ওর হেঁটে আসার দৃশ্য দেখে সায়নার বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগল। দীপকের সুগঠিত শরীর, চোখের সেই গভীরতা—সব মিলিয়ে ও যেন এক মোহময় মানুষ। গাড়িতে উঠে দীপক একঝলক তাকিয়েই বুঝতে পারল সায়নার মনের অবস্থা। — "কী হলো? চুপ করে আছো কেন?...

অন্তহীন তৃষ্ণা: হৃদয়ের এক অবাধ্য উপাখ্যান

সূচনা: বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা ঢাকা শহরের ধুলোবালি আর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত আসে যা জীবনকে আমূল বদলে দেয়। নীলার জীবনে হেনরি (সায়েম) ছিল সেই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো—অপ্রত্যাশিত কিন্তু অনিবার্য। তাদের পরিচয়ের পর থেকে গত তিন মাসে নীলা এক অন্য জগতে বাস করছে। সায়েমকে দেখার পর থেকে তার ভেতরে এমন এক সুপ্ত কামনার জন্ম হয়েছে, যা সে আগে কখনও অনুভব করেনি। গত সাত মাস কোনো পুরুষের ছোঁয়া না পাওয়া শরীরটা যেন কেবল সায়েমের অপেক্ষাতেই ছিল। নীলা জানত না সায়েমের মধ্যে কী এমন জাদুকরী শক্তি আছে, কিন্তু তার গভীর চোখের চাউনি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর নীলার দীর্ঘদিনের সাজানো ‘সংকল্প’ বা 'রেজোলিউশন' ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল। প্রথম রাতের সেই উন্মাদনা সেদিন ছিল এক মেঘলা রাত। নীলার ড্রয়িংরুমে বসে তারা কফি খাচ্ছিল। নীলার মনে কোনো অভিসন্ধি ছিল না; সে কেবল সায়েমের সান্নিধ্য চেয়েছিল। কিন্তু সায়েম যখন কাছে এসে নীলার কপালে আলতো করে চুমু খেল এবং খুব ধীর স্বরে কথা বলতে শুরু করল, নীলা যেন সম্মোহিত হয়ে গেল। সায়েমের পুরুষালি সুবাসে নীলা মাতাল হয়ে যাচ্ছিল। নীলা নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সায়েমের হাতের ছোঁয়া যখন তার ...

रंग, प्रेम और कला: एक अधूरी दास्तान | Hindi Romantic Story for Artists

कला एक ऐसी भाषा है जिसकी कोई सीमा नहीं होती। यह भावनाओं को, छुअन को और रंगों को एक ऐसे कैनवास पर उकेरती है जो शब्दों से परे होता है। भारत जैसे देश में, जहाँ कला और संस्कृति की जड़ें बहुत गहरी हैं, प्रेम को अक्सर एक आध्यात्मिक और दिव्य रूप में देखा गया है। लेकिन कभी-कभी, दो अलग-अलग पीढ़ियों, दो अलग-अलग दृष्टिकोणों के बीच का प्रेम भी रंगों की तरह आपस में घुल-मिल जाता है। यह कहानी है एक ऐसे चित्रकार की, जिसकी उम्र के इस पड़ाव पर कला ही उसका सब कुछ थी, और एक ऐसी युवा लड़की की जो रंगों की दुनिया में अपनी पहचान बनाना चाहती थी। पहला अध्याय: कला की दुनिया और मुलाकात मैं लगभग पैंतीस साल का हूँ और बारह साल की उम्र से कला और रंगों की दुनिया में डूबा हुआ हूँ। मेरी आँखों ने रंगों के अनगिनत शेड्स देखे हैं, लेकिन जब आप एक ऐसे शहर में रहते हैं जहाँ युवा और ऊर्जावान छात्र-छात्राएं कला सीखने आते हैं, तो जीवन का नजरिया थोड़ा बदल जाता है। यहाँ एक प्रसिद्ध कला महाविद्यालय है, जहाँ के छात्रों के पास अभी सीखने के लिए बहुत कुछ है। लेकिन हर नए सेमेस्टर के साथ, जीवन में कुछ नई ऊर्जा, कुछ नए रंग और कुछ ताज़गी जर...