
এবারের ঈদটা আবির-এর কাছে একেবারেই আলাদা। তিন বছর পর ও বাংলাদেশে এসেছে। সেনাবাহিনীতে চাকরির কারণে এতদিন বিদেশে কাটাতে হয়েছে, আর ওর মেহজাবিন-ও ছিল অন্য এক জায়গায় পোস্টেড। যদিও এখনো ওরা এক শহরে নেই, তবু পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বটা কিছুটা হলেও কাছাকাছি এনেছে ওদের। এই ঈদটা একসঙ্গে কাটানোর আনন্দে আবিরের মন দারুণ উত্তেজিত।
গতকাল রাতে আবির যখন বাসায় পৌঁছানোর অপেক্ষায় ছিল, ওর মন কেমন যেন ব্যাকুল হয়ে উঠছিল। কল্পনায় ও ভাবছিল, কেমন হবে অনেক দিন পর মেহজাবিনকে কাছে পাওয়া! ঈদের জন্য সুন্দর করে সাজানো উঠোনে রাখা আমগাছটার নিচে বসে দুজন শুধু নিজেদের মাঝে হারিয়ে যাবে। এই ভাবনায় ওর বুকের ভেতর ধুকপুকানি আরও বেড়ে গেল।
সন্ধ্যার একটু পরেই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। দরজা খুলতেই মেহজাবিনকে দেখে আবির হাসল, কিন্তু ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত মায়া। ও যতটা সম্ভব নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করল, তারপর বলল, "চলো, বাইরে একটু বসি!"
উঠোনে রাখা বড় আমগাছটার নিচে বসে দুজন একে অপরের দিকে তাকাল। মেহজাবিনের গায়ে সুন্দর জামদানি শাড়ি, মাথায় একটা হালকা ওড়না। ঈদের আলোয় ওর চেহারা আরও উজ্জ্বল লাগছিল।
আবির ধীরে ধীরে ওর হাতটা ধরে বলল, "তুমি জানো, আমি তিন বছর ধরে এই মুহূর্তটার অপেক্ষা করছি?"
মেহজাবিন লজ্জায় একটু হেসে বলল, "আমিও!"
গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ঈদের চাঁদের আলো ওদের মুখে এসে পড়ছিল। আবির ওর গায়ে থাকা শালটা মেহজাবিনের গায়ে জড়িয়ে দিল। তারপর খুব ধীরে ওর কপালে একটা মিষ্টি চুমু দিল।
মেহজাবিন চোখ বন্ধ করে অনুভব করল সেই মুহূর্তের উষ্ণতা। আবির ওর হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বলল, "তোমার সঙ্গে এই একটুখানি সময় কাটানোর জন্য কতদিন অপেক্ষা করেছি, তুমি জানো?"
মেহজাবিন কিছু বলল না, শুধু ওর মাথাটা আবিরের কাঁধে রাখল। বাতাসে ঈদের খুশির সুবাস ভেসে আসছিল। দূরে কোথাও থেকে মিষ্টি গানের সুর শোনা যাচ্ছিল।
ওরা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল। চারপাশের কোলাহল থেকেও যেন আলাদা হয়ে গিয়েছিল ওরা। মেহজাবিন আস্তে করে বলল, "আমি চাই, প্রতিটা ঈদ তোমার সঙ্গে এমন করেই কাটাই!"
আবির ওর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল, "ইনশাআল্লাহ, আমরা সব ঈদ একসঙ্গে কাটাবো। শুধু ঈদ নয়, আমাদের পুরো জীবন।"
গাছতলায় বসে দুজনেই অনুভব করছিল, ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো উপহার নেই। ঈদের রাতে এই মুহূর্তটাই হয়ে থাকল ওদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন