সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আড়ালের ভালোবাসা

bangla romantic story

 

তানিয়া-র পরিবার ছিল বেশ বড়। বাবা-মা, দাদা-দিদি, দাদু-ঠাকুমা—সব মিলিয়ে বাড়িতে সর্বদা চঞ্চলতা লেগেই থাকত। তাই ওর বাড়িতে গেলে অরুণ-এর সঙ্গে তেমন একটা নির্জনে সময় কাটানো সম্ভব হতো না। কিন্তু সেদিন তানিয়ার চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা ছিল। ওর মিষ্টি হাসির ফাঁকে একটা রহস্য লুকিয়ে ছিল, যা অরুণ সহজেই বুঝতে পারল।

রাত হয়ে এসেছিল। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত, কিন্তু তানিয়া হঠাৎই অরুণের হাত ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "আমাদের একটু নিরিবিলিতে কথা বলা দরকার।"

অরুণ প্রথমে একটু অবাক হলেও, ওর চোখের চাহনিতে যে গভীরতা ছিল, তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।

"কোথায় যাবো?"

তানিয়া একটু লাজুক হাসি হেসে বলল, "চলো, আমাদের পুরোনো স্টোররুমটায়।"

স্টোররুমটা ছিল একটা ছোট্ট ঘর, যেখানে কেউ তেমন একটা যেত না। অরুণ ওর হাত ধরে ওখানে ঢুকল, আর তানিয়া আস্তে করে দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল। চারপাশে পুরোনো বই, কাঠের তাক, আর কিছু পুরনো আসবাবপত্র রাখা ছিল।

সেই ক্ষুদ্র জায়গার মধ্যে দুজন একে অপরের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে গেল। তানিয়ার চোখে এক রোমাঞ্চকর উচ্ছ্বাস খেলা করছিল। অরুণ ওর হাতটা নিজের হাতের ভেতর নিয়ে বলল, "তুমি জানো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি?"

তানিয়া ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বলল, "জানি... আর আমিও তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি।"

তারপর, এক আশ্চর্য নীরবতা নেমে এল। বাইরে দূর থেকে কারও হাসির শব্দ ভেসে আসছিল, কিন্তু সেই মুহূর্তে ওরা দুজন একে অপরের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যেন সারা পৃথিবী হারিয়ে গেছে।

অরুণ খুব ধীরে তানিয়ার কপালে একটা আলতো চুমু খেয়ে বলল, "তুমি জানো, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।"

তানিয়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। সে তখন এতটাই অভিভূত ছিল যে, কিছু বলার ভাষাই খুঁজে পেল না। অরুণ ওর কাঁধে হাত রাখল, "আমাদের ভালোবাসার এই মুহূর্তগুলোই তো জীবনের আসল আনন্দ, তাই না?"

তানিয়া মাথা তুলে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর ও ধীরে ধীরে অরুণের কাঁধে মাথা রাখল। সেই মুহূর্তে বাইরের দুনিয়া যেন একেবারে থেমে গিয়েছিল।

একটু পরেই বাইরে থেকে তানিয়ার দিদির ডাক শোনা গেল, "তানিয়া! কোথায় গেলে?"

তানিয়া আর অরুণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল। যেন একটা গোপন রহস্য ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ ওদের চোখেমুখে খেলা করছিল।

তানিয়া দরজাটা খুলে বাইরে বেরোল, আর অরুণ একটু পিছনে দাঁড়িয়ে ওকে দেখে মৃদু হাসল। সেদিনের রাতটা হয়তো তেমন অসাধারণ কিছু ছিল না, কিন্তু তাদের দুজনের জন্য সেটা হয়ে রইল চিরস্মরণীয়—একটা গোপন, সুন্দর ভালোবাসার মুহূর্ত।

শেষ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দুপুরের ভালবাসা

  অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও দীপকের দিকে তাকালে হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত সায়নার। কয়েক সপ্তাহ হলো তাদের বন্ধুত্ব একটু ভিন্ন মোড় নিয়েছে, কিন্তু সায়না জানে—এই সম্পর্ক তার জীবনকে বদলে দেবে চিরদিনের জন্য। সবকিছু শুরু হয়েছিল এক দুপুরের বিরতিতে। দীপক সায়নাকে বলল, "চলো, ব্যাংকে যেতে হবে, তুমি সঙ্গ দেবে?" সায়না কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। দীপকের গাড়িতে উঠতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত উত্তেজনা, এক মিষ্টি টান। অফিসে ব্যস্ততার কারণে সারাদিন ওদের মধ্যে খুব কম কথাই হয়, তাই দীপকের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে ওর মন আনন্দে নেচে উঠল। ড্রাইভের সময় দীপকের দৃঢ় হাতে স্টিয়ারিং চাকা ধরার ভঙ্গিটা সায়নার মনে একরকম শিহরণ জাগাল। ওর মনের মাঝে একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। গাড়িতে বসে সে দীপকের দিকেই তাকিয়ে রইল। দীপক ব্যাংকে কাজ সেরে যখন ফিরে এল, তখন ওর হেঁটে আসার দৃশ্য দেখে সায়নার বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগল। দীপকের সুগঠিত শরীর, চোখের সেই গভীরতা—সব মিলিয়ে ও যেন এক মোহময় মানুষ। গাড়িতে উঠে দীপক একঝলক তাকিয়েই বুঝতে পারল সায়নার মনের অবস্থা। — "কী হলো? চুপ করে আছো কেন?...

অন্তহীন তৃষ্ণা: হৃদয়ের এক অবাধ্য উপাখ্যান

সূচনা: বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা ঢাকা শহরের ধুলোবালি আর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত আসে যা জীবনকে আমূল বদলে দেয়। নীলার জীবনে হেনরি (সায়েম) ছিল সেই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো—অপ্রত্যাশিত কিন্তু অনিবার্য। তাদের পরিচয়ের পর থেকে গত তিন মাসে নীলা এক অন্য জগতে বাস করছে। সায়েমকে দেখার পর থেকে তার ভেতরে এমন এক সুপ্ত কামনার জন্ম হয়েছে, যা সে আগে কখনও অনুভব করেনি। গত সাত মাস কোনো পুরুষের ছোঁয়া না পাওয়া শরীরটা যেন কেবল সায়েমের অপেক্ষাতেই ছিল। নীলা জানত না সায়েমের মধ্যে কী এমন জাদুকরী শক্তি আছে, কিন্তু তার গভীর চোখের চাউনি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর নীলার দীর্ঘদিনের সাজানো ‘সংকল্প’ বা 'রেজোলিউশন' ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল। প্রথম রাতের সেই উন্মাদনা সেদিন ছিল এক মেঘলা রাত। নীলার ড্রয়িংরুমে বসে তারা কফি খাচ্ছিল। নীলার মনে কোনো অভিসন্ধি ছিল না; সে কেবল সায়েমের সান্নিধ্য চেয়েছিল। কিন্তু সায়েম যখন কাছে এসে নীলার কপালে আলতো করে চুমু খেল এবং খুব ধীর স্বরে কথা বলতে শুরু করল, নীলা যেন সম্মোহিত হয়ে গেল। সায়েমের পুরুষালি সুবাসে নীলা মাতাল হয়ে যাচ্ছিল। নীলা নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সায়েমের হাতের ছোঁয়া যখন তার ...

रंग, प्रेम और कला: एक अधूरी दास्तान | Hindi Romantic Story for Artists

कला एक ऐसी भाषा है जिसकी कोई सीमा नहीं होती। यह भावनाओं को, छुअन को और रंगों को एक ऐसे कैनवास पर उकेरती है जो शब्दों से परे होता है। भारत जैसे देश में, जहाँ कला और संस्कृति की जड़ें बहुत गहरी हैं, प्रेम को अक्सर एक आध्यात्मिक और दिव्य रूप में देखा गया है। लेकिन कभी-कभी, दो अलग-अलग पीढ़ियों, दो अलग-अलग दृष्टिकोणों के बीच का प्रेम भी रंगों की तरह आपस में घुल-मिल जाता है। यह कहानी है एक ऐसे चित्रकार की, जिसकी उम्र के इस पड़ाव पर कला ही उसका सब कुछ थी, और एक ऐसी युवा लड़की की जो रंगों की दुनिया में अपनी पहचान बनाना चाहती थी। पहला अध्याय: कला की दुनिया और मुलाकात मैं लगभग पैंतीस साल का हूँ और बारह साल की उम्र से कला और रंगों की दुनिया में डूबा हुआ हूँ। मेरी आँखों ने रंगों के अनगिनत शेड्स देखे हैं, लेकिन जब आप एक ऐसे शहर में रहते हैं जहाँ युवा और ऊर्जावान छात्र-छात्राएं कला सीखने आते हैं, तो जीवन का नजरिया थोड़ा बदल जाता है। यहाँ एक प्रसिद्ध कला महाविद्यालय है, जहाँ के छात्रों के पास अभी सीखने के लिए बहुत कुछ है। लेकिन हर नए सेमेस्टर के साथ, जीवन में कुछ नई ऊर्जा, कुछ नए रंग और कुछ ताज़गी जर...