
তানিয়া-র পরিবার ছিল বেশ বড়। বাবা-মা, দাদা-দিদি, দাদু-ঠাকুমা—সব মিলিয়ে বাড়িতে সর্বদা চঞ্চলতা লেগেই থাকত। তাই ওর বাড়িতে গেলে অরুণ-এর সঙ্গে তেমন একটা নির্জনে সময় কাটানো সম্ভব হতো না। কিন্তু সেদিন তানিয়ার চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা ছিল। ওর মিষ্টি হাসির ফাঁকে একটা রহস্য লুকিয়ে ছিল, যা অরুণ সহজেই বুঝতে পারল।
রাত হয়ে এসেছিল। সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত, কিন্তু তানিয়া হঠাৎই অরুণের হাত ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "আমাদের একটু নিরিবিলিতে কথা বলা দরকার।"
অরুণ প্রথমে একটু অবাক হলেও, ওর চোখের চাহনিতে যে গভীরতা ছিল, তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।
"কোথায় যাবো?"
তানিয়া একটু লাজুক হাসি হেসে বলল, "চলো, আমাদের পুরোনো স্টোররুমটায়।"
স্টোররুমটা ছিল একটা ছোট্ট ঘর, যেখানে কেউ তেমন একটা যেত না। অরুণ ওর হাত ধরে ওখানে ঢুকল, আর তানিয়া আস্তে করে দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল। চারপাশে পুরোনো বই, কাঠের তাক, আর কিছু পুরনো আসবাবপত্র রাখা ছিল।
সেই ক্ষুদ্র জায়গার মধ্যে দুজন একে অপরের একদম কাছাকাছি দাঁড়িয়ে গেল। তানিয়ার চোখে এক রোমাঞ্চকর উচ্ছ্বাস খেলা করছিল। অরুণ ওর হাতটা নিজের হাতের ভেতর নিয়ে বলল, "তুমি জানো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি?"
তানিয়া ধীরে ধীরে মাথা নেড়ে বলল, "জানি... আর আমিও তোমাকে ঠিক ততটাই ভালোবাসি।"
তারপর, এক আশ্চর্য নীরবতা নেমে এল। বাইরে দূর থেকে কারও হাসির শব্দ ভেসে আসছিল, কিন্তু সেই মুহূর্তে ওরা দুজন একে অপরের দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিল যেন সারা পৃথিবী হারিয়ে গেছে।
অরুণ খুব ধীরে তানিয়ার কপালে একটা আলতো চুমু খেয়ে বলল, "তুমি জানো, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।"
তানিয়া লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল। সে তখন এতটাই অভিভূত ছিল যে, কিছু বলার ভাষাই খুঁজে পেল না। অরুণ ওর কাঁধে হাত রাখল, "আমাদের ভালোবাসার এই মুহূর্তগুলোই তো জীবনের আসল আনন্দ, তাই না?"
তানিয়া মাথা তুলে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তারপর ও ধীরে ধীরে অরুণের কাঁধে মাথা রাখল। সেই মুহূর্তে বাইরের দুনিয়া যেন একেবারে থেমে গিয়েছিল।
একটু পরেই বাইরে থেকে তানিয়ার দিদির ডাক শোনা গেল, "তানিয়া! কোথায় গেলে?"
তানিয়া আর অরুণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসল। যেন একটা গোপন রহস্য ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ ওদের চোখেমুখে খেলা করছিল।
তানিয়া দরজাটা খুলে বাইরে বেরোল, আর অরুণ একটু পিছনে দাঁড়িয়ে ওকে দেখে মৃদু হাসল। সেদিনের রাতটা হয়তো তেমন অসাধারণ কিছু ছিল না, কিন্তু তাদের দুজনের জন্য সেটা হয়ে রইল চিরস্মরণীয়—একটা গোপন, সুন্দর ভালোবাসার মুহূর্ত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন