
রাত্রি তখন গভীর। ঘর জুড়ে নিঃশব্দ আলো, শুধু কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে ভেসে আসা নীলচে আলোয় অনুজের মুখটা আরও মনোযোগী মনে হচ্ছিল। সে তখন এক রোমাঞ্চকর ভিডিও গেমে ডুবে ছিল, যেখানে তার মহাকাশযান শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল।
অন্যদিকে, ঈশা ধীরে ধীরে ঘরের এক কোণ থেকে তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিল। ঈশার গায়ে ছিল তার নতুন লাল রঙের সিল্কি নাইটি, যা অনুজের সবচেয়ে পছন্দের। সে জানত, অনুজ বাইরে যতই গেমিং পাগল হয়ে থাকুক, তার প্রতি সে একটুও উদাসীন নয়।
ঈশা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল। সে জানত, আজকের রাতটা একটু মজার হতে চলেছে।
"তুমি কি সারারাত এই গেমটাই খেলবে?" ঈশা হাসতে হাসতে বলল, অনুজের কাঁধে হাত রেখে।
অনুজ একটু চমকে উঠল, তবে চোখ সরাল না স্ক্রিন থেকে।
"আর মাত্র কিছুক্ষণ, ঈশা। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেভেল!"
ঈশা ঠোঁট কামড়ে হেসে ফেলল। সে জানত, কীভাবে এই ‘গুরুত্বপূর্ণ লেভেল’ থেকে অনুজের মনোযোগ সরানো যায়।
সে পাশে বসে পড়ল, একেবারে অনুজের কাছাকাছি। তারপর নিজের লম্বা চুলগুলো আলতো করে ছড়িয়ে দিল অনুজের কাঁধের ওপর।
অনুজ কপট রাগ দেখিয়ে বলল, "ঈশা, প্লিজ! আমি গেমটা হেরে যাব!"
"ওহ, সত্যি?" ঈশা মিষ্টি হেসে বলল। সে জানত, তার উপস্থিতি এখন অনুজের গেমের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
সে এক পা তুলে দিল টেবিলের ওপর, আর নাইটির কাপড় খানিকটা সরে গেল। অনুজ এক মুহূর্তের জন্য তাকাল, তারপর সঙ্গে সঙ্গে তার মহাকাশযান এক শত্রুর আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেল।
"ঈশা! দেখলে তো, আমি গেমটা হারলাম!" অনুজ একটু রাগ দেখিয়ে বলল।
ঈশা কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, "আমি কি তোমাকে বলেছি, আমাকে দেখো?"
অনুজ এবার সত্যিই তার দিকে মনোযোগ দিল। ঈশার চোখের চাহনিতে একটা দুষ্টুমি, একটা চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে ছিল।
"তুমি আজ কেমন যেন বেশি দুষ্টু হয়ে গেছ," অনুজ মৃদু হাসল।
"তা তো হবই! তুমি যদি সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকো, তাহলে আমাকে একটু উদ্যোগ নিতে হবে, তাই না?"
অনুজ হালকা হাসল, তারপর ঈশার হাত ধরল।
"তাহলে উদ্যোগ নাও, দেখি তুমি কতটা সফল হতে পারো!"
ভালোবাসার মিষ্টি স্পর্শ
ঈশা ধীরে ধীরে অনুজের কাঁধে হাত রাখল, তারপর তার আঙুলগুলো বুলিয়ে দিল তার চুলের মধ্যে।
"তুমি জানো, আমি তোমার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে কত ভালোবাসি?" ঈশা ফিসফিস করে বলল।
অনুজ তার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছিল না। ঈশার মিষ্টি গলার স্বর, তার উষ্ণ স্পর্শ—সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত আবেশ তৈরি হচ্ছিল।
সে ঈশার কোমর জড়িয়ে ধরে বলল, "তুমি সত্যিই আমাকে হারিয়ে দিচ্ছো আজ।"
"গেমিংয়ে নয়, কিন্তু?" ঈশা মজা করে বলল।
অনুজ হেসে উঠল, তারপর ঈশাকে আরও কাছে টেনে নিল। তাদের চোখে তখন গভীর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।
ঈশা আলতো করে তার মাথা অনুজের বুকে রাখল।
"তুমি জানো, আমি তোমার সঙ্গে এরকম মুহূর্তগুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।"
"এরকম মুহূর্ত মানে?"
"যখন তুমি শুধু আমার দিকে তাকাও, যখন তোমার পুরো মনোযোগ শুধুই আমার জন্য থাকে।"
অনুজ ঈশার চিবুক ধরে উপরের দিকে তুলল, তারপর মৃদু স্বরে বলল, "তুমি যদি আমার পৃথিবী হও, তাহলে আমি কি অন্য কোনো গ্রহের দিকে তাকাব?"
ঈশার চোখ আনন্দে চকচক করল।
রোমান্সের এক চমৎকার রাত
সেই রাতে, তারা অনেকক্ষণ ধরে গল্প করল। পুরনো দিনের কথা, প্রথম দেখার অনুভূতি, প্রথম স্পর্শের জাদু—সবকিছু নিয়ে একসঙ্গে হাসল, একসঙ্গে সময় কাটাল।
অনুজ ঈশার হাত ধরে বলল, "আমি প্রতিদিন চাই, আমরা একে অপরকে এভাবেই অনুভব করি। একে অপরের কাছে থাকি।"
"এটাই তো ভালোবাসার আসল রূপ, তাই না?" ঈশা বলল।
"তাই তো মনে হয়," অনুজ হেসে বলল, "এবং আমাদের ভালোবাসা দিন দিন আরও গভীর হবে।"
ঈশা আলতো করে অনুজের কাঁধে মাথা রেখে বলল, "আমি চাই, আমাদের এই রাতগুলো কখনও শেষ না হোক।"
"তাহলে আমরা একসঙ্গে এরকম রাত তৈরি করব, প্রতিদিন," অনুজ বলল, ঈশার কপালে চুমু খেয়ে।
সেই রাতের তারা দু'জনের কাছে শুধুমাত্র একটি বিশেষ রাত ছিল না, বরং ভালোবাসার এক চিরস্থায়ী মুহূর্ত হয়ে রইল—যেখানে ছিল আবেগ, খুনসুটি, আর একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।
এটাই ছিল তাদের প্রেমের সত্যিকারের খেলা—যেখানে হৃদয়ই ছিল আসল জয়স্টিক, যা শুধুমাত্র ভালোবাসার স্পর্শেই পরিচালিত হত।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন