অনিকা আর রোহন, দুজনেই কলকাতার কর্মব্যস্ত জীবনে সফল। অনিকা জনপ্রিয় ওয়েবসিরিজের পরিচিত মুখ, রোহন তথ্যপ্রযুক্তি জগতে নিজের স্থান করে নিয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর হয়ে গেলেও, কাজের চাপে মধুচন্দ্রিমার সুযোগ মেলেনি। তাই দুজনে মিলে ঠিক করলো, একটু নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য গোয়ার সমুদ্র সৈকতে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসবে। মুম্বাইয়ে কয়েকটা দিন পুরনো স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর, তাদের আসল গন্তব্য ছিল গোয়া।
গোয়া পৌঁছে তারা দেখলো, প্রচণ্ড গরম আর আর্দ্রতা। তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্ল্যাট থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। দিনের বেলা সমুদ্রের ধারে বিশ্রাম, সন্ধ্যায় হেঁটে বেড়ানো, আর স্থানীয় হোটেলে সুস্বাদু গোয়ান খাবার – এই ছিল তাদের রুটিন। আর ছিলPassionate ভাবে একে অপরের কাছে আসা। তাদের শারীরিক সম্পর্ক ছিল প্রাণবন্ত আর তৃপ্তিকর।
এক দুপুরে, রোহন যখন ঘুমাচ্ছিল, অনিকা সমুদ্রের ধারে রোদ পোহাচ্ছিল। তখন এক সুদর্শন আগন্তুক, বিক্রম, তার সাথে আলাপ করতে এগিয়ে এলো। দু'জনের মধ্যে হালকা কথাবার্তা শুরু হলো। অনিকা, বিবাহিত হলেও, বিক্রমের প্রতি এক অদম্য আকর্ষণ অনুভব করলো। বিক্রম ছিল ভদ্র এবং মিশুক। কিছুক্ষণ পর রোহন এসে যোগ দিলে, তাদের মধ্যে সৌজন্যমূলক কথাবার্তা হলো।
সেদিন রাতে, ওয়াইনের নেশায়, অনিকা রোহনকে কাছে টেনে নিলো। তাদের গভীর ভালোবাসার মুহূর্তে, রোহন অনিকাকে জিজ্ঞেস করলো, বিক্রমের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ আছে কিনা। অনিকা প্রথমে অপ্রস্তুত হয়ে গেল, কিন্তু অস্বীকার করতে পারলো না। রোহন তখন স্বীকার করলো, অন্য পুরুষের সাথে অনিকার ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথা ভেবে তার উত্তেজনা হয়। অনিকা অবাক হলো, কিন্তু তার মধ্যে এক নতুন অনুভূতির জন্ম হলো।
পরের দিন, তারা "অকস্মাৎ" বিক্রমের সাথে আবার দেখা করলো সমুদ্র সৈকতে। আরও কিছুক্ষণ কথাবার্তা, আর এক রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়ার পর, রোহনের উৎসাহে অনিকা আর বিক্রমের মধ্যে একটি শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলো।
তাদের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে, অনিকা, রোহন আর বিক্রম একসঙ্গে ছিল। অনিকা প্রথমে কিছুটা নার্ভাস বোধ করলেও, রোহনের উৎসাহে সাহসী হয়ে উঠলো। সে নিজের কাপড় খুলে বিক্রমকে প্রলুব্ধ করতে শুরু করলো। বিক্রমের প্রতি তার পূর্বের আকর্ষণ এখন আরও তীব্র হয়ে উঠল। রোহন সবকিছু দেখছিল, তার চোখে আনন্দের ঝিলিক। অনিকা প্রথমে বিক্রমের দন্ড মুখে পুরে নিলো, তারপর বিছানায় শুয়ে তার সাথে মিলিত হলো। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, অনিকা একই সাথে দুই পুরুষের উপস্থিতি অনুভব করছিল, যা তার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। এক পর্যায়ে, সে রোহনকে কাছে ডাকলো, এবং রোহনও তার সাথে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হলো। তাদের সেই মুহূর্তটি চরম আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল।
মুম্বাই ফেরার আগে, বিমানবন্দরে অনিকার মনে হলো সে যেন বিক্রমকে দেখলো। তার মনে এক মিশ্র অনুভূতির সৃষ্টি হলো – উত্তেজনা আর ভয়। কিন্তু সে নিশ্চিত হতে পারলো না, সত্যিই কি সে বিক্রমকে দেখেছিল? সে রোহনকে চুম্বন করলো, এবং তারা গেটের দিকে এগিয়ে চললো। ভবিষ্যতে বিক্রমের সাথে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েই গেল।
অনিকা হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো। ভিড়ের মধ্যে কোথাও একটা চেনা মুখ যেন ঝিলিক দিয়ে মিলিয়ে গেল। বিক্রম? নাকি তার মনের ভুল? গোয়ার সেই অস্বাভাবিক রাত, সেই উত্তেজনা, সেই নিষিদ্ধ আকর্ষণ – সব যেন আবার তার মনে জেগে উঠলো। কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে সামলে নিলো। এটা সম্ভব নয়। এত বড় বিমানবন্দরে, এত মানুষের মধ্যে, বিক্রম হঠাৎ করে কোথায় আসবে? তবুও, তার মন থেকে একটা অজানা আশঙ্কা যাচ্ছিল না।
সে রোহনের দিকে তাকালো। রোহন অন্যমনস্ক হয়ে কি যেন ভাবছিল। অনিকা তার হাত ধরলো। রোহন তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। সেই মুচকি হাসিতে যেন অনেক কথা লুকানো ছিল। অনিকা জানতো, গোয়ার সেই রাত তাদের সম্পর্কে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটা অজানা আকর্ষণ, একটা নিষিদ্ধ অনুভূতি, যা তাদের দুজনকে আরও কাছে এনেছে, আবার এক অজানা ভয়ের মধ্যেও ফেলে দিয়েছে।
তারা প্লেনের দিকে এগিয়ে গেল। অনিকা একবার পিছনে ফিরে দেখলো। কিন্তু না, কেউ নেই। সব তার মনের ভুল। তবুও, তার মনে একটা খটকা থেকে গেল। বিক্রমের সাথে কি তাদের আবার দেখা হবে? নাকি গোয়ার সেই রাত একটা স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর অনিকার জানা ছিল না। শুধু এক অজানা অপেক্ষা তার মনে জাগলো, যা সময়ের সাথে সাথে আরও গভীর হতে লাগলো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন