আনিকার জীবনে সবকিছুই প্রায় পারফেক্ট ছিল। নিজের স্বামী রোহানের সঙ্গে মিলে তৈরি করা তাঁদের স্টার্টআপ এখন বেশ সফল। কর্মচারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, আর কাজের চাপও। তবু, কাজের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ছিল, যা তাঁকে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ দিত।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে, অফিসে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। পরিবর্তনটা এসেছে এক নতুন কর্মচারীর মাধ্যমে—প্রিয়া।
প্রিয়া ছিল আত্মবিশ্বাসী, সাহসী আর স্বাধীনচেতা। তাঁর গাঢ় চোখ আর ঠোঁটের কোণে সারাক্ষণ একটা বিদ্রুপের হাসি লেগে থাকত। শরীরে নানান ট্যাটু আর কানে ছোট ছোট রিং—সব মিলিয়ে যেন এক অন্যরকম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রথম দিন থেকেই আনিকার মনে হয়েছিল, প্রিয়া শুধু কাজের জন্য এখানে আসেনি। তাঁর চোখে এক ধরনের দুর্বোধ্য কিছু ছিল—যেন তিনি সব বুঝতে পারেন, কিন্তু কিছুই বলেন না।
প্রথম ইঙ্গিত
সন্ধ্যার পর অফিসের লাউঞ্জে বসে থাকাটা প্রায় অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। কয়েকজন কর্মচারী তখনও কাজ করছিল, কিন্তু আনিকা, রোহান আর প্রিয়া একসঙ্গে সোফায় বসে গল্প করছিলেন।
ওয়াইনের বোতলটা ফাঁকা হয়ে এলে প্রিয়া এক গভীর হাসি দিয়ে বলল,
— “তোমরা কখনো একসঙ্গে কাউকে নিয়ে ভাবছো?”
আনিকা চমকে গেলেও মুখে সেটা ফুটিয়ে তুলল না। রোহান একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলেও তার চোখের গভীরে একটা কৌতূহল জেগে উঠল।
— “মানে?” আনিকা জানতে চাইল।
প্রিয়া হালকা হাসল। “মানে, কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নেয়ার ইচ্ছে আছে কি না! জীবনে একটু রোমাঞ্চ দরকার, তাই না?”
আনিকা কিছু বলল না, শুধু চোখ মেলে তাকাল প্রিয়ার দিকে। সে স্পষ্টই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।
রোহান কথাটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেও বিষয়টা সেখানেই শেষ হয়নি।
অজানা অনুভূতি
সেই রাতে, বাড়ি ফিরে রোহান আর আনিকা প্রিয়ার ব্যাপারে কথা বলল।
— “ও কি আমাদের সঙ্গে ফ্লার্ট করছে?” রোহান জানতে চাইল।
আনিকা একটু হেসে বলল, “তুমি কি চাও যে ও করুক?”
রোহান সরাসরি উত্তর দিল না, কিন্তু তার চোখে একটা আলাদা উজ্জ্বলতা ছিল।
আনিকা বুঝতে পারছিল, সে নিজেও প্রিয়ার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করছে। প্রিয়ার বেপরোয়া আচরণ, তার আত্মবিশ্বাস, তার চোখের গভীর দৃষ্টি—সব মিলিয়ে আনিকা যেন এক অন্যরকম অনুভূতিতে ডুবে যাচ্ছিল।
সীমা অতিক্রম
পরদিন অফিসে একই রকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো। আনিকা আর রোহান যখন একান্তে কথা বলছিল, প্রিয়া তখন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এল।
এই সময় রোহান অকস্মাৎ বলে বসলো, “আনিকা বলছিল যে ও তোমার প্রতি আকৃষ্ট।”
আনিকা স্তম্ভিত হয়ে গেল। এতটা সরাসরি রোহান বলবে, সেটা সে কল্পনাও করেনি। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রিয়া একটুও অবাক হলো না। বরং, সে ধীরগতিতে তার শার্টের বোতাম খুলতে শুরু করল।
আনিকার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এলো।
প্রিয়া সামনে এগিয়ে এল, তার চোখে এক ধরনের খেলা। তারপর আনিকার ঠোঁটের ওপর তার ঠোঁট রাখল।
আনিকা এক মুহূর্ত দ্বিধায় ছিল, কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেই অনুভূতির কাছে আত্মসমর্পণ করল।
নিষিদ্ধ রাত্রি
কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে গেল। আনিকা আর প্রিয়া একে অপরের পোশাক খুলছিল, রোহান তখনও পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল।
আনিকা কখনো ভাবেনি, সে এমন পরিস্থিতিতে পড়বে। কিন্তু সে থামতে চাইল না।
প্রিয়া প্রথমে এগিয়ে এলো, তারপর আনিকার চুলের মুঠি ধরে তার দিকে ঝুঁকে পড়ল।
সারা ঘর নিস্তব্ধ, শুধু তাঁদের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
কিছুক্ষণ পর, রোহানও যোগ দিল, তাদের একত্রে এক অজানা আবিষ্কারের পথে নিয়ে গেল।
পরদিনের সকাল
প্রিয়া প্রথম বেরিয়ে গেল, তার ঠোঁটে এক রহস্যময় হাসি।
আনিকা আর রোহান পরে অফিস থেকে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করল।
রোহান হেসে বলল, “আমার মনে হয়, প্রিয়া সোমবার থেকে চাকরি ছেড়ে দেবে।”
আনিকা চোখ ঘুরিয়ে তাকাল, তারপর হেসে বলল, “দেখা যাক।”
সোমবার এলে, প্রিয়া যথারীতি অফিসে এসে হাজির হলো, আগের মতোই আত্মবিশ্বাসী।
আনিকা তখন রোহানের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি বাজি জিতেছি।”
রোহান শুধু হাসল, আর আনিকার হাতটা শক্ত করে ধরল।
শেষ কথা
এই অভিজ্ঞতা তাদের জীবনে নতুন একটা মাত্রা যোগ করল। এটা কি শুধুই একটা মুহূর্তের উত্তেজনা ছিল, নাকি কিছু গভীরতর অনুভূতি তৈরি হলো?
সেই উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন