সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এক অমলিন রাত

download-25

অনন্যা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল। লাল রঙের শিফন শাড়িটা তার শরীরের প্রতিটি বাঁককে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে। গভীর কাটের ব্লাউজ থেকে উঁকি দেওয়া তার ত্বক, ঘন কাজলের নিচে দীপ্তিময় চোখ, আর লাল রঙা ঠোঁট – সব মিলিয়ে সে যেন এক মোহময়ী নারী। আজ রাতটা অন্যরকম হতে চলেছে, আজ সে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেবে।

বছরের পর বছর সংসারের একঘেয়েমিতে হারিয়ে গিয়েছিল তার আর বিক্রমের ভালোবাসার সেই উন্মত্ত আগুন। কিন্তু আজ, সে সেই আগুনকে আবার জ্বালিয়ে তুলবে।

ফ্ল্যাটের দরজার চাবির ঘর্ষণের শব্দ শুনে তার বুকের ভিতর কেমন যেন দপদপ করে উঠল। বিক্রম ফিরে এসেছে। সুট-টাই পরা, অফিসের ধকল স্পষ্ট তার মুখে।

দরজার ফ্রেমে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্রম এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল, চোখ তার স্ত্রীর শরীরের উপর আটকে রইল। চোখের তারায় যেন এক অন্যরকম আগুন, এক আদিম আকর্ষণ খেলা করছিল।

"আজ কি বিশেষ কিছু?" বিক্রম ধীর কণ্ঠে বলল, তার গলা যেন একটু বেশি ভারী শোনালো।

অনন্যা এক চিলতে হাসি দিল, চোখে খেলা করল একরাশ ভালোবাসা।

"তুমি।"

সে ধীরে ধীরে তার স্বামীর দিকে এগিয়ে গেল, তার টাই ধরে একটু টেনে নামালো, যাতে তাদের ঠোঁট প্রায় স্পর্শ করে।

"আমি তোমাকে মিস করেছি," অনন্যার গলা কাঁপছিল উত্তেজনায়।

বিক্রম গভীর শ্বাস নিল, যেন নিজেকে সামলাতে চাইছে। "অনন্যা..."

কিন্তু সে আর কিছু বলার সুযোগ পেল না। অনন্যা ধীরে ধীরে তার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট রাখল। প্রথমে হালকা ছোঁয়া, তারপর গভীর, আরও গভীর, যেন নিজের সমস্ত আবেগ দিয়ে সে তাকে অনুভব করতে চাইছে।

বিক্রমও দেরি করল না। তার শক্তিশালী হাত অনন্যাকে আরও কাছে টেনে নিল, এমনভাবে যেন তাদের মাঝে বাতাসের একটা কণাও ঢুকতে পারবে না।

চুম্বনের মাঝে মাঝে বিক্রম ফিসফিস করে বলল, "তুমি আজ অন্যরকম লাগছে।"

"কেন? ভালো লাগছে না?" অনন্যা হাসল, তার আঙুলগুলো বিক্রমের চুলের মাঝে খেলিয়ে দিল।

"খুব বেশি ভালো লাগছে।" বিক্রমের চোখ ঝলসে উঠল কামনার আগুনে।

অনন্যা তার হাত ধরে ধীরে ধীরে বেডরুমের দিকে নিয়ে গেল। তাদের মাঝে জমে থাকা আকাঙ্ক্ষার উত্তাপ যেন পুরো ঘর জ্বালিয়ে দেবে।

বিক্রম তার কাছে আসতে আসতে শাড়ির আঁচলটা এক টান দিয়ে সরিয়ে দিল। ঠোঁট রাখল তার উন্মুক্ত ঘাড়ে, তারপর ধীরে ধীরে নামতে লাগল কাঁধের দিকে।

অনন্যার শরীর শিহরিত হয়ে উঠল। তার শরীর যেন এক জোয়ারের মধ্যে ভাসছে, যেখানে সে শুধু ডুবতেই চায়, তলিয়ে যেতে চায়।

"তুমি কি চাও?" বিক্রম তার কানের কাছে ফিসফিস করে জানতে চাইল।

"তোমাকে..." অনন্যার কণ্ঠ কাঁপল, "পুরোপুরি, সম্পূর্ণভাবে।"

সেই মুহূর্তেই বিক্রম তাকে নিজের বাহুতে তুলে নিল, বিছানায় শুইয়ে দিল। রাত যত গভীর হলো, তাদের দেহের ভাষা আরও আগ্রহী, আরও উন্মত্ত হয়ে উঠল।

বিক্রমের আঙুল অনন্যার কোমরের নরম ত্বকে বোলাতে লাগল, ধীরে ধীরে তার শাড়ির বাঁধন আলগা করে দিল। অনন্যা চোখ বন্ধ করল, অনুভব করল তার স্বামীর উষ্ণ শ্বাস তার নগ্ন ত্বকের উপর।

"তুমি জানো, আমি কখনও এতটা অধীর হইনি তোমার জন্য," বিক্রম বলল, তার গলা কাঁপছিল অনুভূতির ভারে।

অনন্যা কিছু বলল না, শুধু হাত বাড়িয়ে তার মুখটা নিজের দিকে টেনে নিল। তাদের ঠোঁট আবারও এক হয়ে গেল, এবার আরও গভীর, আরও তীব্র।

বিক্রম তার হাতের স্পর্শে অনন্যার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিল। তার আঙুলগুলো যেন ম্যাজিকের মতো চলতে লাগল, প্রতিটি ছোঁয়া, প্রতিটি চুম্বনে অনন্যার দেহ আরও উত্তেজিত হয়ে উঠছিল।

"আর অপেক্ষা করতে পারছি না..." বিক্রম ফিসফিস করল।

"আমিও না," অনন্যা এক নিশ্বাসে বলে উঠল।

সেই রাত ছিল শুধুই তাদের। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাঝে, উষ্ণ স্পর্শের ভেতরে, কামনার উত্তাপে তারা হারিয়ে গেল। একে অপরকে নতুন করে আবিষ্কার করল, নতুন করে চাইল, নতুন করে ভালোবাসল।

ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকল, অনন্যা বিক্রমের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। শারীরিক ক্লান্তি থাকলেও, মনে ছিল এক অপার তৃপ্তি।

সে হাসল।

এই রাতের পর, তাদের

 ভালোবাসা আর কখনও পুরনো হবে না।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দুপুরের ভালবাসা

  অফিসের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেও দীপকের দিকে তাকালে হৃদয়ের গভীরে এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করত সায়নার। কয়েক সপ্তাহ হলো তাদের বন্ধুত্ব একটু ভিন্ন মোড় নিয়েছে, কিন্তু সায়না জানে—এই সম্পর্ক তার জীবনকে বদলে দেবে চিরদিনের জন্য। সবকিছু শুরু হয়েছিল এক দুপুরের বিরতিতে। দীপক সায়নাকে বলল, "চলো, ব্যাংকে যেতে হবে, তুমি সঙ্গ দেবে?" সায়না কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল। দীপকের গাড়িতে উঠতেই সে অনুভব করল এক অদ্ভুত উত্তেজনা, এক মিষ্টি টান। অফিসে ব্যস্ততার কারণে সারাদিন ওদের মধ্যে খুব কম কথাই হয়, তাই দীপকের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পেয়ে ওর মন আনন্দে নেচে উঠল। ড্রাইভের সময় দীপকের দৃঢ় হাতে স্টিয়ারিং চাকা ধরার ভঙ্গিটা সায়নার মনে একরকম শিহরণ জাগাল। ওর মনের মাঝে একটা অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করছিল। গাড়িতে বসে সে দীপকের দিকেই তাকিয়ে রইল। দীপক ব্যাংকে কাজ সেরে যখন ফিরে এল, তখন ওর হেঁটে আসার দৃশ্য দেখে সায়নার বুকের ভিতর ধকধক করতে লাগল। দীপকের সুগঠিত শরীর, চোখের সেই গভীরতা—সব মিলিয়ে ও যেন এক মোহময় মানুষ। গাড়িতে উঠে দীপক একঝলক তাকিয়েই বুঝতে পারল সায়নার মনের অবস্থা। — "কী হলো? চুপ করে আছো কেন?...

অন্তহীন তৃষ্ণা: হৃদয়ের এক অবাধ্য উপাখ্যান

সূচনা: বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা ঢাকা শহরের ধুলোবালি আর ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মুহূর্ত আসে যা জীবনকে আমূল বদলে দেয়। নীলার জীবনে হেনরি (সায়েম) ছিল সেই কালবৈশাখী ঝড়ের মতো—অপ্রত্যাশিত কিন্তু অনিবার্য। তাদের পরিচয়ের পর থেকে গত তিন মাসে নীলা এক অন্য জগতে বাস করছে। সায়েমকে দেখার পর থেকে তার ভেতরে এমন এক সুপ্ত কামনার জন্ম হয়েছে, যা সে আগে কখনও অনুভব করেনি। গত সাত মাস কোনো পুরুষের ছোঁয়া না পাওয়া শরীরটা যেন কেবল সায়েমের অপেক্ষাতেই ছিল। নীলা জানত না সায়েমের মধ্যে কী এমন জাদুকরী শক্তি আছে, কিন্তু তার গভীর চোখের চাউনি আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর নীলার দীর্ঘদিনের সাজানো ‘সংকল্প’ বা 'রেজোলিউশন' ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল। প্রথম রাতের সেই উন্মাদনা সেদিন ছিল এক মেঘলা রাত। নীলার ড্রয়িংরুমে বসে তারা কফি খাচ্ছিল। নীলার মনে কোনো অভিসন্ধি ছিল না; সে কেবল সায়েমের সান্নিধ্য চেয়েছিল। কিন্তু সায়েম যখন কাছে এসে নীলার কপালে আলতো করে চুমু খেল এবং খুব ধীর স্বরে কথা বলতে শুরু করল, নীলা যেন সম্মোহিত হয়ে গেল। সায়েমের পুরুষালি সুবাসে নীলা মাতাল হয়ে যাচ্ছিল। নীলা নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিল, কিন্তু সায়েমের হাতের ছোঁয়া যখন তার ...

रंग, प्रेम और कला: एक अधूरी दास्तान | Hindi Romantic Story for Artists

कला एक ऐसी भाषा है जिसकी कोई सीमा नहीं होती। यह भावनाओं को, छुअन को और रंगों को एक ऐसे कैनवास पर उकेरती है जो शब्दों से परे होता है। भारत जैसे देश में, जहाँ कला और संस्कृति की जड़ें बहुत गहरी हैं, प्रेम को अक्सर एक आध्यात्मिक और दिव्य रूप में देखा गया है। लेकिन कभी-कभी, दो अलग-अलग पीढ़ियों, दो अलग-अलग दृष्टिकोणों के बीच का प्रेम भी रंगों की तरह आपस में घुल-मिल जाता है। यह कहानी है एक ऐसे चित्रकार की, जिसकी उम्र के इस पड़ाव पर कला ही उसका सब कुछ थी, और एक ऐसी युवा लड़की की जो रंगों की दुनिया में अपनी पहचान बनाना चाहती थी। पहला अध्याय: कला की दुनिया और मुलाकात मैं लगभग पैंतीस साल का हूँ और बारह साल की उम्र से कला और रंगों की दुनिया में डूबा हुआ हूँ। मेरी आँखों ने रंगों के अनगिनत शेड्स देखे हैं, लेकिन जब आप एक ऐसे शहर में रहते हैं जहाँ युवा और ऊर्जावान छात्र-छात्राएं कला सीखने आते हैं, तो जीवन का नजरिया थोड़ा बदल जाता है। यहाँ एक प्रसिद्ध कला महाविद्यालय है, जहाँ के छात्रों के पास अभी सीखने के लिए बहुत कुछ है। लेकिन हर नए सेमेस्टर के साथ, जीवन में कुछ नई ऊर्जा, कुछ नए रंग और कुछ ताज़गी जर...