
অনন্যা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখছিল। লাল রঙের শিফন শাড়িটা তার শরীরের প্রতিটি বাঁককে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে। গভীর কাটের ব্লাউজ থেকে উঁকি দেওয়া তার ত্বক, ঘন কাজলের নিচে দীপ্তিময় চোখ, আর লাল রঙা ঠোঁট – সব মিলিয়ে সে যেন এক মোহময়ী নারী। আজ রাতটা অন্যরকম হতে চলেছে, আজ সে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেবে।
বছরের পর বছর সংসারের একঘেয়েমিতে হারিয়ে গিয়েছিল তার আর বিক্রমের ভালোবাসার সেই উন্মত্ত আগুন। কিন্তু আজ, সে সেই আগুনকে আবার জ্বালিয়ে তুলবে।
ফ্ল্যাটের দরজার চাবির ঘর্ষণের শব্দ শুনে তার বুকের ভিতর কেমন যেন দপদপ করে উঠল। বিক্রম ফিরে এসেছে। সুট-টাই পরা, অফিসের ধকল স্পষ্ট তার মুখে।
দরজার ফ্রেমে দাঁড়িয়ে থাকা বিক্রম এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল, চোখ তার স্ত্রীর শরীরের উপর আটকে রইল। চোখের তারায় যেন এক অন্যরকম আগুন, এক আদিম আকর্ষণ খেলা করছিল।
"আজ কি বিশেষ কিছু?" বিক্রম ধীর কণ্ঠে বলল, তার গলা যেন একটু বেশি ভারী শোনালো।
অনন্যা এক চিলতে হাসি দিল, চোখে খেলা করল একরাশ ভালোবাসা।
"তুমি।"
সে ধীরে ধীরে তার স্বামীর দিকে এগিয়ে গেল, তার টাই ধরে একটু টেনে নামালো, যাতে তাদের ঠোঁট প্রায় স্পর্শ করে।
"আমি তোমাকে মিস করেছি," অনন্যার গলা কাঁপছিল উত্তেজনায়।
বিক্রম গভীর শ্বাস নিল, যেন নিজেকে সামলাতে চাইছে। "অনন্যা..."
কিন্তু সে আর কিছু বলার সুযোগ পেল না। অনন্যা ধীরে ধীরে তার ঠোঁটের ওপর নিজের ঠোঁট রাখল। প্রথমে হালকা ছোঁয়া, তারপর গভীর, আরও গভীর, যেন নিজের সমস্ত আবেগ দিয়ে সে তাকে অনুভব করতে চাইছে।
বিক্রমও দেরি করল না। তার শক্তিশালী হাত অনন্যাকে আরও কাছে টেনে নিল, এমনভাবে যেন তাদের মাঝে বাতাসের একটা কণাও ঢুকতে পারবে না।
চুম্বনের মাঝে মাঝে বিক্রম ফিসফিস করে বলল, "তুমি আজ অন্যরকম লাগছে।"
"কেন? ভালো লাগছে না?" অনন্যা হাসল, তার আঙুলগুলো বিক্রমের চুলের মাঝে খেলিয়ে দিল।
"খুব বেশি ভালো লাগছে।" বিক্রমের চোখ ঝলসে উঠল কামনার আগুনে।
অনন্যা তার হাত ধরে ধীরে ধীরে বেডরুমের দিকে নিয়ে গেল। তাদের মাঝে জমে থাকা আকাঙ্ক্ষার উত্তাপ যেন পুরো ঘর জ্বালিয়ে দেবে।
বিক্রম তার কাছে আসতে আসতে শাড়ির আঁচলটা এক টান দিয়ে সরিয়ে দিল। ঠোঁট রাখল তার উন্মুক্ত ঘাড়ে, তারপর ধীরে ধীরে নামতে লাগল কাঁধের দিকে।
অনন্যার শরীর শিহরিত হয়ে উঠল। তার শরীর যেন এক জোয়ারের মধ্যে ভাসছে, যেখানে সে শুধু ডুবতেই চায়, তলিয়ে যেতে চায়।
"তুমি কি চাও?" বিক্রম তার কানের কাছে ফিসফিস করে জানতে চাইল।
"তোমাকে..." অনন্যার কণ্ঠ কাঁপল, "পুরোপুরি, সম্পূর্ণভাবে।"
সেই মুহূর্তেই বিক্রম তাকে নিজের বাহুতে তুলে নিল, বিছানায় শুইয়ে দিল। রাত যত গভীর হলো, তাদের দেহের ভাষা আরও আগ্রহী, আরও উন্মত্ত হয়ে উঠল।
বিক্রমের আঙুল অনন্যার কোমরের নরম ত্বকে বোলাতে লাগল, ধীরে ধীরে তার শাড়ির বাঁধন আলগা করে দিল। অনন্যা চোখ বন্ধ করল, অনুভব করল তার স্বামীর উষ্ণ শ্বাস তার নগ্ন ত্বকের উপর।
"তুমি জানো, আমি কখনও এতটা অধীর হইনি তোমার জন্য," বিক্রম বলল, তার গলা কাঁপছিল অনুভূতির ভারে।
অনন্যা কিছু বলল না, শুধু হাত বাড়িয়ে তার মুখটা নিজের দিকে টেনে নিল। তাদের ঠোঁট আবারও এক হয়ে গেল, এবার আরও গভীর, আরও তীব্র।
বিক্রম তার হাতের স্পর্শে অনন্যার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিল। তার আঙুলগুলো যেন ম্যাজিকের মতো চলতে লাগল, প্রতিটি ছোঁয়া, প্রতিটি চুম্বনে অনন্যার দেহ আরও উত্তেজিত হয়ে উঠছিল।
"আর অপেক্ষা করতে পারছি না..." বিক্রম ফিসফিস করল।
"আমিও না," অনন্যা এক নিশ্বাসে বলে উঠল।
সেই রাত ছিল শুধুই তাদের। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাঝে, উষ্ণ স্পর্শের ভেতরে, কামনার উত্তাপে তারা হারিয়ে গেল। একে অপরকে নতুন করে আবিষ্কার করল, নতুন করে চাইল, নতুন করে ভালোবাসল।
ভোরের প্রথম আলো যখন জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকল, অনন্যা বিক্রমের বুকে মাথা রেখে শুয়ে ছিল। শারীরিক ক্লান্তি থাকলেও, মনে ছিল এক অপার তৃপ্তি।
সে হাসল।
এই রাতের পর, তাদের
ভালোবাসা আর কখনও পুরনো হবে না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন