
উত্তর ভারতের ছোট্ট এক শহর, বরেলী। সেখানকার এক বিখ্যাত কলেজে কমিউনিকেশনস বিভাগে পড়ত সারথি। তার পরিবার বহু বছর আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে মুম্বাই ও পরে কানাডা পাড়ি দিয়েছিল, কিন্তু শিকড় ছিল এখানেই। একদিন কলেজের এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে সে দেখা পেল অরাধনার, এক সৌম্য ও মেধাবী গবেষণারত ছাত্রী, যিনি দক্ষিণ ভারতের কেরালার ত্রিশূর থেকে এসেছেন।
অরাধনা তখন পোস্টগ্র্যাজুয়েট গবেষণার জন্য ভারতেরই একটি বিদেশি অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করছিল। তার পড়াশোনার কেন্দ্র ছিল শিক্ষাগত উন্নয়ন ও গবেষণা। দুই জনেই ছিমছাম, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করত, কিন্তু প্রথম আলাপে যেন তাদের হৃদয়ে অন্য এক সুর বেজে উঠল।
সারথি প্রথমে নিজেকে কানাডার নাগরিক বলেই পরিচয় দেয়। কিন্তু কয়েকদিন পর যখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রেমে পরিণত হতে থাকে, তখন সে জানায় যে তার পূর্বপুরুষদের শিকড় বরেলীতেই। এই সত্য জেনে অরাধনা এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়েছিল, কিন্তু তাতে তার ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। বরং তাদের বন্ধনের গভীরতা আরও বেড়ে গেল।
গ্রীষ্মের ছুটিতে সারথি অরাধনাকে নিয়ে তার পৈতৃক বাড়ি বরেলীতে যায়। সেখানে তাদের দেখা হয় সারথির পরিবারের সঙ্গে। ঐতিহ্য, সংস্কার, আর ভালোবাসার মিশেলে এক আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়। অরাধনা প্রথমে কিছুটা অচেনা পরিবেশে অস্বস্তি বোধ করলেও খুব শিগগিরই আপন করে নেয় সেই পরিবারকে। সারথির মা তাকে পছন্দ করে ফেলে—একটি সংস্কৃতিমনস্ক, শিক্ষিত মেয়ে হিসেবে।
পরের বছর তারা দক্ষিণ ভারতের এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সমুদ্রতীরবর্তী শহর কুমারাকমে ছুটি কাটাতে যায়। সেখানে তাদের দু’জনের মন এক হয়ে যায়। তারা ঠিক করে তিনটি স্থানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে—কেরালায়, বরেলীতে ও অবশেষে কানাডায়।
অবশেষে কেরালার ঐতিহ্যবাহী এক আয়ুর্বেদিক রিসর্টে তাদের প্রথম বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে মালয়ালম ও হিন্দির সুর একসাথে বেজে ওঠে, এক অপূর্ব ভারতীয় মিলনের নিদর্শন হিসেবে। বরেলীর অনুষ্ঠানে উর্দু গজল আর ক্লাসিক হিন্দি সংগীত ছড়িয়ে দেয় এক ঐন্দ্রজালিক পরিবেশ।
আর কানাডায়, তাদের শেষ বিয়ের অনুষ্ঠানে, অতিথিরা ‘সেরঙ্গ’-এর তালে নেচে উঠেছিল। যেন এ ছিল ভারতীয় হৃদয় ও পাশ্চাত্য জীবনের এক রোমান্টিক সংমিশ্রণ। সেই সুরই যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল—"এই প্রেমের কোনো সীমান্ত নেই, শুধু হৃদয়ের বন্ধনই চিরন্তন।"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন