এই কাহিনীটি নিবিড় অরণ্য, পাহাড়ী পথ এবং হৃদস্পন্দনের। একটি সাধারণ ট্রেকিং দলের সদস্য হিসেবে শুরু হওয়া আলাপ কীভাবে প্রকৃতির আদিম সৌন্দর্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল, তারই এক বিস্তারিত বিবরণ।
কলকাতা থেকে বহু দূরে, উত্তরবঙ্গের এক নির্জন পাহাড়ি পথে আমাদের দলটা এগোচ্ছিল। পাহাড়ি ঝোরার শব্দ আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া চারপাশে আর কোনো শব্দ নেই। সেই দলেই ওর সাথে আমার প্রথম দেখা। ওর নামটা আমার ঠিক মনে নেই, তাই মনে মনে আমি ওকে 'পাহাড়ি' বলেই ডাকি। কারণ ওর চোখের দৃষ্টিতে পাহাড়ের গভীরতা আর শরীরে বুনো মাটির গন্ধ ছিল। গায়ের রঙটা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, চুলগুলো ঘন কালো, অনেকটা আশির দশকের বিখ্যাত কোনো বাঙালি নায়কের মতো। ঠিক আমার পছন্দের তালিকায় ও পড়ে না, কিন্তু ওর হাঁটার ছন্দ আর ব্যক্তিত্বের মধ্যে এমন একটা চুম্বকীয় টান ছিল যা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।
আমরা দুজনেই দলের বাকিদের থেকে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। পাহাড়ের চড়াই-উতরাই পথে আমাদের গতি ছিল সমান। বাকিরা যখন অনেক পেছনে হাপাচ্ছিল, আমরা তখন পাইন আর ওকের বনের ভেতর দিয়ে নিজেদের পথ করে নিচ্ছিলাম। নির্জন ট্রেইলে আমরা প্রায়ই একা হয়ে পড়ছিলাম। আর সেই একাকীত্বই আমাদের একে অপরের মনের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিল। টুকরো টুকরো কথা, ছোটখাটো হাসি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সখ্যতা তৈরি হচ্ছিল আমাদের মধ্যে।
সেই মায়াবী উপত্যকা
কয়েক মাইল হাঁটার পর আমরা এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছলাম, যা দেখে মনে হচ্ছিল কোনো শিল্পীর আঁকা ছবি। একটা বিস্তীর্ণ সবুজ চত্বর, যার মাঝখানে শান্ত এক নীল সরোবর। চারিদিকে বুনো ফুলের মেলা আর ঘন সবুজ গাছের সারি। জায়গাটা যেন পৃথিবীর সব কলরব থেকে মুক্ত। আমরা দুজনেই তখন বেশ ক্লান্ত, নিঃশ্বাস পড়ছিল দ্রুত। ঘাসের ওপর বসে পড়লাম আমরা। পিঠের ব্যাগ নামিয়ে জলের বোতল আর হালকা কিছু খাবার বের করলাম।
আমি যখন জলের বোতলটা মুখে তুলেছি, তখন অনুভব করলাম ওর সেই গাঢ় বাদামী চোখদুটো স্থির হয়ে আছে আমার ওপর। সেই দৃষ্টিতে তৃষ্ণা ছিল, কিন্তু তা জলের নয়। এক অদ্ভুত মুগ্ধতা আর নিবিড় পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা খেলা করছিল ওর চোখে।
অনুভূতির বিস্ফোরণ
নিস্তব্ধ উপত্যকায় কেবল বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। হঠাৎই ও ওর শক্ত সমর্থ হাতটা রাখল আমার উন্মুক্ত উরুর ওপর। সেই স্পর্শে আমার সারা শরীরে যেন বিদ্যুতের তরঙ্গ খেলে গেল। আমি স্থাণু হয়ে গেলাম। ও খুব ধীরে ওর আঙুল দিয়ে আমার উরুর ওপর বৃত্তাকার আল্পনা আঁকতে শুরু করল। ওর আঙুলের ডগাগুলো ধীরে ধীরে আমার শর্টসের প্রান্তের দিকে এগোচ্ছিল। প্রতিটি ইঞ্চি অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে আমার হৃদপিণ্ড দ্রুততর হচ্ছিল।
ও আরও কাছে এগিয়ে এল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস আমার ঠোঁটে এসে লাগছিল। ও খুব আলতো করে ওর জিভ দিয়ে আমার ঠোঁট দুটোকে ছুঁয়ে দিল, যেন কোনো তৃষ্ণার্ত পথিক বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা অনুভব করছে। আমার সারা শরীর তখন কাঁপছে। ও ওর হাতটা আমার টপসের ভেতরে নিয়ে গেল এবং খুব সন্তর্পণে আমার স্তনবৃন্তটি ওর দুই আঙুলের মাঝে চেপে ধরল। এক তীব্র শিহরণ আমার মেরুদণ্ড দিয়ে নেমে গেল।
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। ধীরে ধীরে ঘাসের ওপর শুয়ে পড়লাম। ও খুব নিপুণভাবে আমার পোশাকগুলো শরীর থেকে আলাদা করে দিচ্ছিল। রোদের উত্তাপের চেয়েও বেশি উত্তাপ আমি তখন নিজের ভেতরে অনুভব করছিলাম। এক অজানা কামনায় আমি অস্ফুট শব্দে কাতরে উঠছিলাম। ও যখন আমার সামনে উঠে দাঁড়াল, ওর বিশাল দেহটা সূর্যের আলোকে আড়াল করে দিয়েছিল। নিমেষের মধ্যে ও সম্পূর্ণ অনাবৃত হলো। ওর সুঠাম শরীর, রোদে পোড়া তামাটে চামড়া আর ওর পুরুষত্বের সেই দীপ্ত রূপ দেখে আমি যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেলাম।
আদিম মিলনের ছন্দ
প্রকৃতির এই আদিম নির্জনতায় আমরা দুজন এখন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ। ও খুব কোমলভাবে আমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ অনুভব করতে শুরু করল। ওর হাতের ছোঁয়ায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়ছিলাম। আমার শরীরের গভীরে এক অদ্ভুত আর্দ্রতা অনুভব করছিলাম আমি। প্রকৃতির সবচেয়ে আদিম কাজটির জন্য আমি তখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
ও যখন আমার গভীরে প্রবেশ করল, আমি এক নিমেষে সমস্ত জাগতিক জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম। এক তীব্র আনন্দের ঢেউ আমার শরীরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আমরা দুজনেই তখন বুনো পশুর মতো চিৎকার করছিলাম, যা উপত্যকার বাতাসের দীর্ঘশ্বাসকেও ছাপিয়ে যাচ্ছিল। ওর প্রতিটি স্পন্দন আমাকে এক চরম উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছিল। আমি চিৎকার করছিলাম, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল আনন্দে। সেই মনোরম পরিবেশ আর আমাদের শারীরিক মিলন মিলেমিশে এক স্বর্গীয় অনুভূতি তৈরি করেছিল। একের পর এক চরম পুলক আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলছিল।
প্রশান্তির অবেলা
সব যখন শান্ত হলো, ও দ্রুত উঠে নিজের পোশাক পরে নিল। কিন্তু আমার মধ্যে তখনও সেই আবেশ লেগে ছিল। আমি নড়তে পারছিলাম না। সেই মুহূর্তের প্রতিটি রেশ আমি নিজের মনের মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখতে চাইছিলাম। যখন আমি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলাম, অনুভব করলাম বিকেলের মিষ্টি রোদ আমার শরীরে পড়ছে। এক অদ্ভুত শান্তি আর শিহরণে আমার সারা মন ভরে উঠল। পাহাড়ের সেই নির্জন উপত্যকায় আমি যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেলাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন