
হৃদস্পন্দনের ছন্দ: একটি ঝোড়ো রাত
ঢাকার ব্যস্ত শহরের এক অভিজাত জিম। তখন রাত প্রায় তিনটে। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেমে গিয়ে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে চারদিকে। আয়রন জিমের বিশাল হলঘরে আমি তখন একা। অন্তত আমি তাই ভেবেছিলাম। বেঞ্চ প্রেসের শেষ সেটটা দেওয়ার জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঠিক তখনই আমার নজরে এল সে।
পরনে কালো জিম লেগিংস আর ঢিলেঢালা একটি ধূসর হুডি। তার গায়ের রঙ যেন শরতের মেঘের মতো উজ্জ্বল। লম্বা ঘন কালো চুলগুলো ফ্রেঞ্চ ব্রেইড করে বাঁধা, যা তার ঘাড়ের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সাধারণত জিমে মেয়েদের উপস্থিতি আমাকে কিছুটা বিরক্তই করে, কারণ আমি নিজের ওয়ার্কআউটে খুব মনোযোগ দিতে পছন্দ করি। কিন্তু এই মেয়েটি ছিল আলাদা। তার প্রতিটি স্ট্রেচিং বা হাত উপরে তোলার ভঙ্গিতে এমন এক আভিজাত্য ছিল যে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইলাম। তার পেটের তামাটে উজ্জ্বলতা হুডির নিচ দিয়ে মাঝে মাঝে ঝলক দিচ্ছিল। এক কথায় তাকে অপূর্ব লাগছিল।
আমার শেষ সেটে আমার একজন 'স্পটার' বা সাহায্যকারীর প্রয়োজন ছিল। সত্যি বলতে একা দিতে পারতাম, কিন্তু তার সাথে কথা বলার অজুহাতটা হাতছাড়া করতে চাইনি। আমি তাকে একটু সাহায্য করতে বললাম। সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই এগিয়ে এল। আমি যখন বেঞ্চে শুয়ে ওয়েটটা তুলছি, সে ঠিক আমার মাথার উপরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার শরীরের হালকা সুগন্ধ আমার নাকে আসছিল। সে যখন একটু নিচু হয়ে আমাকে রডটা ধরতে সাহায্য করল, আমি তার চোখের গভীরতা দেখতে পেলাম। দশটি রিপিটেশন আমি খুব ধীরে ধীরে করলাম, যেন সময়টা ওখানেই থমকে থাকে।
সে যখন তার ওয়ার্কআউট শেষ করল, তার সারা শরীর ঘামে ভিজে একাকার। সেই ঘামাক্ত শরীরেও তাকে দারুণ সতেজ লাগছিল। আমি সাহস করে জিজ্ঞেস করলাম, "শাওয়ারের পর কি একসাথে ব্রেকফাস্টি করা যায়? কাছেই একটা ভালো ক্যাফে খোলা আছে।"
সে একটু হাসল। সেই হাসিতে যেন ভোরের আলো ফুটে উঠল। মৃদু স্বরে বলল, "অবশ্যই।"
আগুনের পরশমণি
আমরা যার যার লকার রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে যখন গরম জলের ধারা শরীরে নিচ্ছিলাম, তখন আমার ভাবনায় শুধুই সে। হঠাৎ অনুভব করলাম পিঠের ওপর দিয়ে নরম দুটো হাত নেমে যাচ্ছে। চমকে পেছনে ফিরে দেখলাম সে দাঁড়িয়ে। পরনে কিছুই নেই, কেবল তার সেই চিরচেনা মায়াবী হাসি।
"তোমার গায়ের রঙটা দারুণ," সে আমার কোমরে হাত রেখে ফিসফিস করে বলল।
তার সুগঠিত শরীরের প্রতিটি বাঁক যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর কারুকাজ। আমরা একে অপরের খুব কাছে এলাম। বাষ্পে ভরা শাওয়ার রুমের ভেতর আমাদের ঠোঁট মিলেমিশে এক হয়ে গেল। বাইরের ঠান্ডা রাত আর ভেতরের গরম জলের ধারার মাঝে আমাদের শরীর তখন উত্তপ্ত। সে আমার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, "আমি তোমাকে চাই। একদম বন্যভাবে।"
আমরা শাওয়ার রুমের পিচ্ছিল মেঝেতেই একে অপরের গভীরে হারিয়ে যেতে চাইলাম। তার সেই সুগঠিত শরীর আর মসৃণ ত্বক আমার উন্মাদনা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। আমি যখন তাকে আলিঙ্গন করলাম, অনুভব করলাম তার হৃদস্পন্দন আমার নিজের হৃদস্পন্দনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গরম জল আমাদের ওপর ঝরছিল, আর আমরা একে অপরের মাঝে ডুবে যাচ্ছিলাম।
প্রতিটি ছোঁয়ায় ছিল এক গভীর তৃষ্ণা। সে যখন আমার পিঠে নখ দিয়ে আঁকড়ে ধরছিল, আমি বুঝলাম এই মুহূর্তের কোনো তুলনা হয় না। আমাদের শরীরের ঘাম আর জল মিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। এক সময় আমরা দুজনেই চরম প্রশান্তির শিখরে পৌঁছে গেলাম। কয়েক মুহূর্ত আমরা মেঝেতে ওভাবেই পড়ে রইলাম, যেন জগতের সমস্ত ক্লান্তি আর আনন্দ এক বিন্দুতে এসে মিশেছে।
দ্বিতীয় দফার মাদকতা
সময় যেন বাতাসের বেগে উড়ছিল। ঘড়িতে তখন ভোর প্রায় পাঁচটা। আমরা ড্রেসিংরুমে ফিরে এলাম। আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল ঠিক করছিলাম, আর সে তার কাপড় গোছাচ্ছিল। কিন্তু তৃষ্ণা যেন মেটার নয়। আমি পেছন থেকে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম, তার ঘাড়ে আর কাঁধে চুমু খেতে শুরু করলাম। সেও প্রতিবাদ করল না, বরং আরও নিবিড়ভাবে আমায় আঁকড়ে ধরল।
আয়নার প্রতিবিম্বে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আমাদের দুজনের প্রতিচ্ছবি। সেখানে এক আদিম আকুলতা স্পষ্ট ছিল। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো একে অপরের সাথে মিলিত হলাম। এবার ছন্দ ছিল ধীর কিন্তু আরও গভীর। সে আয়নার ওপর হাত রেখে নিজেকে স্থির রাখার চেষ্টা করছিল, আর আমি তার প্রতিটি স্পন্দন অনুভব করছিলাম। এক সময় সেই ধীর ছন্দ দ্রুততর হলো, আর আমরা দুজনেই আবার সেই পরম আনন্দের জগতে হারিয়ে গেলাম।
অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত
ঠিক সেই মুহূর্তে জিমের বাইরের দরজার আওয়াজ পাওয়া গেল। কেউ একজন ঢুকছে। সে দ্রুত তার কাপড়গুলো হাতে নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। ভেতরে ঢুকল আমার এক বন্ধু রফিক।
রফিক আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসল। আমার এলোমেলো অবস্থা আর ঘামাক্ত চেহারা দেখে তার বুঝতে বাকি রইল না যে কিছু একটা ঘটেছে। হঠাৎ তার নজর গেল বেসিনের পাশে পড়ে থাকা সাদা রঙের একটি লেসি আন্ডারপ্যান্টের দিকে।
"সাদা রঙ? আমি তো ভেবেছিলাম তোর পছন্দ হয়তো একটু কড়া কিছু হবে," রফিক বিদ্রূপের স্বরে বলল।
আমি শুধু হাসলাম। কোনো উত্তর না দিয়ে আমি লকার থেকে ব্যাগটা নিলাম আর সেই কাপড়টি কুড়িয়ে নিলাম। জিমের লবিতে গিয়ে দেখলাম সে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাকে তার জিনিসটি ফিরিয়ে দিলাম।
ভোরের প্রথম আলো তখন ঢাকার রাস্তায় পড়তে শুরু করেছে। আমরা দুজনেই জানি, এই রাতটি আমাদের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাত হয়ে থাকবে। আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমরা যে যার পথে রওনা হলাম। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের বাতাসে তখনও তার সুগন্ধ লেগে ছিল আমার গায়ে।
উপসংহার
ঢাকার মতো যান্ত্রিক শহরে ভালোবাসা বা শারীরিক আকর্ষণ অনেক সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়। কিন্তু সেই রাতে শাওয়ার রুমের বাষ্প আর আয়নার সামনের সেই প্রতিচ্ছবি আমার স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে রইল। এটি কেবল একটি শারীরিক মিলন ছিল না, বরং দুজন অপরিচিত মানুষের এক অনন্য আত্মিক এবং শারীরিক সংযোগ ছিল, যা কেবল এই গভীর রাতেই সম্ভব।
সমাপ্ত
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন